৩০শে মে, ২০২০ ইং | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনাকাল বনাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2020/04/jishan.jpg

মহাবিশ্ব আজ স্তম্ভিত, বাংলাদেশ আজ নীরব! শংঙ্কা আর আতংক সর্বত্র। বাংলাদেশসহ মহাবিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া আতঙ্কের নাম ‘করোনাভাইরাস’। চীন, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর এই আতঙ্ক এখন তান্ডবরূপে বাংলাদেশে।

উন্নয়নশীল এই বাংলাদেশ তার সীমিত সম্পদ দিয়ে প্রাণপনে লড়ে যাচ্ছে প্রাণঘাতী অদৃশ্য এক শক্তি ‘করোনা’র সাথে। যার সেনাপতির জায়গায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সিপাহীর ভূমিকায় এদেশের ডাক্তার, নার্স, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা।

এদের পরেও একটা জনগোষ্ঠী আছে যারা বেতন কিংবা প্রণোদনা ছাড়াই লড়ছেন করোনার বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, বলছি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কথা। সারাদেশের হাজার হাজার কর্মী আজ মাসদিন ধরে খোলা ময়দানে যুদ্ধ করছে করোনা’র বিরুদ্ধে। এ যোদ্ধাদের নেই পিপিই কিংবা প্রণোদনা পাবার সম্ভাবনা। তাতে কী আছে? তাদের কাছে আছে শুধুই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বুকভরা দেশপ্রেম আর দেশরত্নের নির্দেশনা। তাদের কাছে প্রটেকশনের জন্য একখানা মাস্ক আর হান্ডগ্লাভসই যথেষ্ট।

এখন আসা যাক মূল কথায়- ছাত্রলীগের করোনা যুদ্ধের যাত্রার শুরুটা মাস্ক দিয়ে। দেশে যখন করোনার প্রভাব দেখা দিল প্রথমদিকে বাজার থেকে মাস্ক উধাও! ২০ টাকার মাস্ক তখন ২০০ টাকা! মাঠে নামলো ছাত্রলীগ, সংগ্রহ করল মাস্ক; অতঃপর শুরু হল মাস্ক বিতরণ। মাস্ক বিতরণ চলাকালীন সময়ে দেখা দিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্বল্পতা। নিরাপদ থাকতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার জরুরী কিন্তুু পাবেন কই? সকল ফার্মেসিতে তখন স্টক আউট। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের প্রচেস্টায় নিজস্ব ফর্মুলায় তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হলো। পরের দিন ফর্মুলা ছড়িয়ে পড়ল ছাত্রলীগের প্রত্যন্ত ইউনিটগুলোতে, শুরু হল দেশব্যাপী স্যানিটাইজার তৈরি ও বিতরণ।

ইতোমধ্যে দেখা দিল খাদ্যাভাব। ছাত্রলীগের ছেলেগুলা উঠেপড়ে লাগলো ফান্ড কালেকশনে। খাদ্যের যোগান না দেয়া গেলে মানুষকে ঘরে রাখা যাবে না। আর সে লক্ষ্যেই সারাদেশে ছাত্রলীগের লাখ লাখ কর্মী এবার খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির মানুষের দরজায় দরজায়। কেউবা বিনামূল্যে বসালো সবজি বাজার আর কেউ কেউ মোটরবাইকে করে চাল-ডাল নিয়ে ছুটল এ অলি তো ও গলি। ছাত্রলীগের প্রতিটা মোটরবাইকে হয়ে উঠল ত্রাণবাহী গাড়ী আর প্রতিটা কর্মী সেচ্ছাশ্রমে নিয়োজিত একেকজন ত্রাণকর্মী। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগান দিতে লাগল অনাহারী পশু পাখিদের আহার। এই মহৎকর্মগুলো দেশের সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টিগোচর হলে তা প্রসংশিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এখানেই শেষ না! আসল ধান কাটার মৌসুম, দেশের খাদ্য সংকট রুখতে কৃষকের ধান তুলতে হবে, কৃষক বাঁচাতে হবে। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তুু  করোনা দুর্যোগে সারাদেশে শ্রমিক সংকট অথবা টাকার অভাবে কৃষকের ধান গোলায় উঠাতে পারছেন না, এমন খবির যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো শেখ হাসিনার নির্দেশে সমস্ত বাংলাদেশে নেমে পড়ল ছাত্রলীগের বীর সেনানীরা। কোন ধরনের আগাম ট্রেনিং ছাড়াই শুধুমাত্র স্বদিচ্ছার কারণে সফল হতে লাগল ছাত্রলীগ। কৃষকের মুখে যখন ফুটতে শুরু করেছে হাসির রেখা, ঠিক তখনই ঘামে ভেজা জামা আর ক্লান্ত শরীরেও প্রশান্তির হাসি মুখে নিয়ে ঘরে ফিরল ছাত্রলীগ।

তবে এ যাত্রা শেষ নয়! সকাল বেলা আবার যাত্রা শুরু হবে, চাল নিয়ে কেউ সবজি নিয়ে অথবা কেউ ধানক্ষেতে। তারপরও আমরা সমালোচিত। আমরা সংবাদের পজেটিভ শিরোনামে নেই, আমরা উপেক্ষিত। তবুও গর্বে আমার বুকটা ভরে ওঠে। সমস্ত শরীরে শিহরণ জাগে এই ভেবে যে আমিও এই গর্বিত সংগঠনের একজন ক্ষুদ্র কর্মী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা মানবতার সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছে প্রতিটি নেতাকর্মী। এটাই বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ।

মনে রাখবেন- ছাত্রলীগে দুইয়েকটা বিশ্বাসঘাতক রয়েছে ঠিকই, তবে সে তুলনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বুকে লালিত বীর সেনানীদের সংখ্যাই ছাত্রলীগে বেশি।

এরপরও কি ট্রল হবে? কেউ কি বলবে কী লীগ? বলুক, আমি তখনও গর্ব করে বলব-  হ্যাঁ, আমি ছাত্রলীগ, আমরা ছাত্রলীগ, আর আমরাই ছাত্রলীগ। এ যেন শত বিসর্জনের মধ্যেও হৃদয়স্পর্শী এক অবিরাম রক্তক্ষরণের নাম ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’।

লেখক- ছাত্রলীগকর্মী।

‘এবি টিভি’র সর্বশেষ প্রতিবেদন-

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজারের প্রথম উপসর্গযুক্ত করোনা রোগী ব্যবসায়ী কুনু মিয়া

সিলেটের ওসমানী ল্যাবে ৩১ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত

সিলেটে র‍্যাব-৯ এর ১৩ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

বিয়ানীবাজারে নতুন আরও ২জন করোনা রোগী শনাক্ত

বিয়ানীবাজারে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বিয়ানীবাজারে পোনা ধরতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

ঘোষণাঃ

Translate »