৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে মাস্ক-লিফলেট বিলির নামে ‘গণজমায়েত’, করোনা ছড়ানোর শঙ্কা

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2020/03/gonojomayet-1.jpg

করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ না করলেও বাংলাদেশ এখন আর শঙ্কামুক্ত নেই। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। নতুন ৬ জনসহ বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯। প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারসহ সিলেটে কোনো করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান না পাওয়া গেলেও মানুষের অসচেতনতায় এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজারবাসীকে নিজের ঘরে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিয়ানীবাজারে জনসেবায় ব্রতী অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন বিতরণ করছেন মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট। একইভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন মহল ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ  থেকেও চলছে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ। পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সদলবলে তারাও বিতরণ করছেন মাস্ক, হাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট। কোনো কোনো জায়গায় অতি উৎসাহীরা মানুষের মুখেও লাগিয়ে দিচ্ছেন মাস্ক।

তাছাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন দোকানপাটে, প্রতিষ্ঠানে, প্রবাসীর বাড়িতে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদলতের অভিযান। চলে ফটোসেশনও। অনেক জায়গায় আবার উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়ে দেখেন এসব কাণ্ড কারখানা। শিক্ষিত ও সচেতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ দূরত্বে দাড়িয়ে মাস্ক লাগিয়ে ছবি তুলেন। আপলোড করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অপরদিকে সামান্য দূরেই একজটলা লোক দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব উপভোগ করছেন। এ চিত্র পুরো পৌরশহরসহ উপজেলার সর্বত্র। অথচ গণজমায়েতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এসব মাস্ক, লিফলেট বিতরণ, সাবান দিয়ে হাত ধুয়া কার্যক্রমে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের লোকজন, পুলিশ বা সাধারণ মানুষের দ্বারাও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার পাড়া-মহল্লায় চলছে মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের নামে গণজমায়েত সৃষ্টি করে ‘লোক দেখানো’ জনসেবা চলছে বলে দাবী সচেতন মহলের। এর ফলে করোনা ভাইরাস ছড়ানোরও ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের দাবি- প্রশাসন, পুলিশ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের তরফ থেকে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। অথচ এদের অনেকের হাতেই থাকেনা গ্লাভস, মুখে নেই মাস্ক। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরে থাক, কে কার আগে লিফলেট দেবেন এই প্রতিযোগিতায় একে অপরের গায়ের উপরে চড়ে যান তারা।

সামাজিক সংগঠনগুলোর মাস্ক-লিফলেট বিতরণে অংশ নেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির চেয়ে ছবি তোলার প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার নিজ হাতে শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের মুখে মাস্ক লাগিয়ে ছবি তুলছেন।

উপজেলায় আসা প্রবাসীদের বাড়িতে তদারকি নিচ্ছে প্রশাসন। এক প্রবাসীকে দেখতে ও সতর্ক আসেন গুটিকয়েক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর তাদের পিছু পিছু প্রবাসীর বাড়িতে চলে আসে পুরো গ্রাম। প্রশাসনের লোকজন দলবেধে কোনো দোকানে দ্রব্যমূল্য বা ফার্মেসীতে মাস্কের দাম জিজ্ঞেস করতে গেলেও সেই দোকানের বাইরে জনা ত্রিশেক লোকের জটলা বেধে যায়। ফলে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চললেও প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না কেউই।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর কর মঙ্গলবার রাতে জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১ মিটার বা ৩ ফিট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। লিফলেট ও মাস্ক বিতরণের নামে গণজমায়েত সৃষ্টি করা যাবে না। ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট ব্যতীত সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। সদ্য বিদেশ ফেরত প্রবাসীদেরকে হোম কোয়ারিন্টনে থাকতে হবে। এসময় তিনি অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হবার জন্য এবং সবাইকে ফেস মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের আহবান জানান।

‘এবি টিভি’র সর্বশেষ প্রতিবেদন-

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তির দাফনের জন্য ২৭জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দিল বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৫৪ জন

বিয়ানীবাজারে ব্যারিকেডের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে স্বেচ্ছায় 'লকডাউন'

বৃটেনে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিয়ানীবাজারের সন্তান সুলতান

বিয়ানীবাজারের করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন-সৎকারে প্রস্তুত ১০ স্বেচ্ছাসেবী

শায়খে ইমামবাড়ি আল্লামা আব্দুল মোমিন আর নেই

ঘোষণাঃ

Translate »