৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একজন মানবপ্রেমী চিকিৎসক বিয়ানীবাজারের সন্তান ডা. মাহফুজুর রহমান (ভিডিওসহ)

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/12/mahfujur-rahman.jpg

ডা. মো. মাহফুজুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। জীব বিজ্ঞানী হওয়ার কথা ছিল তার। নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে পিতার স্বপ্নকে লালন করতে হয়েছেন চিকিসক। ১৯৯৬ সালে জীব বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন শেষ করেন কৃতিত্বের সাথে। কিন্তু ওই বছর জন্মদাতাকে হারান তিনি। এরপর বাবার স্বপ্নকে লালন করতে ভর্তি হন মেডিকেল কলেজে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেডিসিন বিভাগের একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক।

নিউইয়র্ক সিটির সানি ডাউন স্টেট মেডিকেল সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ও মেডিসিন বিভাগের চিফ মেডিকেল অফিসার অধ্যাপক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামের মরহুম মাওলানা ছমির উদ্দিনের জ্যৈষ্ঠ পুত্র।

ডা. মো. মাহফুজুর রহমান ১৯৮৬ সালে পিএইচজি হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে পরিবারের সাথে পাড়ি জমান সুদূর আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর দেশে ছুটে আসেন তিনি। বছরের শেষ দিকে তিনি দেশে এসে পুরো সময় কাটান নিজ এলাকায়। নিজ গ্রামে অসহায় মানুষের সেবা প্রদান করেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। যাদের ঔষধ কেনার সামর্থ নেই তাদের ঔষধও প্রদান করেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন পিতার নামে পৌরশহরে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন সমাজের অনগ্রসর অসহায় মানুষকে সেবা প্রদান করা হবে।

জীব বিজ্ঞানী না হয়ে চিকিৎসক হওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ডা. মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, তার বাবা অনেকটা চিকিৎসার অভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন তিনি অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি চান চিকিৎসার অভাবে যেন আর কোন সন্তান তার বাবাকে না হারায়। সেই উপলব্বধি থেকে জীব বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নকে জলাজঞ্জি দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন চিকিৎসক হিসেবে।

দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক ডাঃ মো. মাহফুজুর রহমান। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে দেশে ছুটে আসেন অসহায় মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়ে। তিনি আগামীতে আরো বড় পরিসরে এসব মানুষকে সেবা দিতে চান।

দেশে কাটানোর সময়কালে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে লোলানদীর পাড়ে কিশোর জীবনের স্মৃতি, বন্ধুদের কোলাহল আর গ্রামের পাঠশালার কথা। পাশাপাশি পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৬ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতি সহপাঠীরা আজ দেশ-বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছে- সহপাঠীদের এমন কৃতিত্বে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, দেশে আসার পর চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি চেষ্টা করেন পুরনো সহপাঠী-বন্ধুদের সময় দিতে। কখনো তাদের দেখা-সাক্ষাত হয়, আবার কখনো ব্যস্ততার কারণে তাদের সাথে যোগাযোগটা মুঠোফোন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি জনসেবা করবেন এটাই এখন তার মূল জীবন দর্শন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন চিকিৎসাপ্রার্থী মানুষকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলার পর তার অনাবিল আনন্দটাই হলো চিকিৎসকের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকি বা বাংলাদেশে, মানুষকে সাহায্য করার জন্য দরকার একধরনের মানসিকতা। একজন মানুষকেও যদি চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য পারি, সেটাই হবে চিকিৎসক হিসেবে আমার সাফল্য,’ বললেন ডা. মো. মাহফুজুর রহমান।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার- প্রতিবাদ জানিয়েছেন বড়লেখার আলতাব

সড়কে গেলো প্রাণ, বিয়ানীবাজারে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা হলো না তাহেরের

বৈরাগীবাজারে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিয়ানীবাজারে শুরু হচ্ছে দ্বৈত্য ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট, উদ্বোধন ১৭ ডিসেম্বর

জাতীয় পার্টির সম্মেলন- প্রস্তুতি কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বিয়ানীবাজারের ৩জন

কাল শনিবার বিয়ানীবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ঘোষণাঃ

Translate »