২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান: কিছু স্মৃতি কিছু কথা

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/09/jubayer-1200x630.jpg

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানকে নিয়ে কিছু কথা বারবার স্মৃতিপটে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্মৃতিপটে ভেসে ওঠছে তাঁর নিষ্পাপ মুখখানি। তিনি প্রতিটি ভাল কাজে উৎসাহ দিতেন। সমাজ সংস্কারে কাজ করতেন। তাঁর দেশ প্রেম ছিল প্রশ্নাতীত।
দেশ স্বাধীনের পূর্বে সংগ্রামের সময় শুক্রবার দিনে আমি মাথিউরা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ দেখি অনেক মুক্তিযোদ্ধারা চতুর্দিক থেকে বাজারে প্রবেশ করছেন। এরমধ্যে মতিউর রহমানও ছিলেন। পরনে হাফ পেন্ট, হাফ গেঞ্জি, কাদে একটি ব্যাগ ও একটি ভারি অস্ত্র এবং কোমরে বেস্টন করা বারুদ। এই দৃশ্যটি বারবার চোখে ভাসে, আর বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রাম ও মতিউর রহমানদের দেশ প্রেম, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে সময়ে যোগ দেয়ার বিষয়টি আমাকে শিহরীত করে।

জাতির এই বীর সন্তান শুধু যুদ্ধের ময়দানে নয়, শিক্ষার প্রসারেও ছিলেন আন্তরিক। বিশেষত মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি ছিল তার অগাধ প্রেম। আমি মাথিউরা বাজার দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাথে আছি কয়েক যুগ থেকে। সেই সুবাদে তাঁকে কাছ থেকে দেখেছি। মাদ্রাসার পারিচালনা খ্যাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত মাসিক চাঁদা তিনি দু’ বছরের একসাথে এবং অগ্রিম প্রদান করতেন।
দেশে আসলে তিনি প্রায়ই মাদ্রাসার খোঁজ-খবর নিতেন, মাদ্রাসায় আসলে দেখা-সাক্ষাত করতেন। মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে আমার সাথে এই সূর্যসন্তানের অনেক আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। তাঁর উদার মন মানসিকতা এবং শিক্ষারে প্রসারে আন্তরিকতায় আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি এমন হবেনই না কেনো? এ শিক্ষা তো তিনি পারিবারিক সূত্রে পেয়েছেন। তাঁর প্রতি আমার মুগ্ধতা দিন দিন বাড়তে থাকে। আমি অপেক্ষায় থাকি আবার কবে তিনি মাদ্রাসায় আসবেন। এক সাথে বসে বিভিন্ন বিষয় (শিক্ষাবান্ধব) নিয়ে আলাপ করবো। আমার সে প্রতীক্ষা সপ্তাহের থেকে পনের দিন পর্যন্ত গড়াতো!

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাবা মরহুম শুয়াইবুর রহমান দীর্ঘসময় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও কিছুদিন সহ সভাপতির দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে মাত্র একদিন ১০-১৫ মিনিট দেরিতে মিটিংয়ে এসেছেন, তাছাড়াও প্রতি মিটিংয়ে তিনি প্রথমে উপস্থিত হওয়া সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এমন গুণীজনের কথা লিখে শেষ করার মত নয়। পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে তিনি পিতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিজের মধ্যে রেখেছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুতিউর রহমান বার্মিংহাম সিটি হাসপাতালে গত ৬ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সময় বিকাল ৬টা ১৮ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতোভয় এই যোদ্ধা মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পূর্ব থেকে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর ৫ নং সেক্টরের অধীনে মতিউর রহমান সুনামগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা পূর্বপার গ্রামে।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। রাব্বে কারীমের নিকট প্রার্থনা, এমন গুণীজনরা যেনো বারবার এই ধরাধামে আসেন। আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় মাথিউরা বাজার দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গত ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় মরহুমের ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষে কুরআন শরীফ খতম ও খতমে আম্বিয়া পাঠ করা হয়। শিক্ষার প্রসারে নিজেকে আজীব জড়িত রাখা বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে আন্তরিক এ শিক্ষানুরাগীর জন্য আল্লাহ তায়লার দরবারে জান্নাত কামনা করছি।

লেখক: সহযোগী প্রধান শিক্ষক, মাথিউরা বাজার দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

A memorial meeting and prayers of the late freedom fighter Manik Ali were held in Beanibazar

বসুন্ধরা কিংস ফ্রেঞ্জ বিয়ানীবাজার শাখার অনুমোদন ।। সভাপতি এনাম সম্পাদক দিলু

হঠাৎই বিকল হয়ে গেলো জনপ্রিয় ভিডিও কলিং অ্যাপ ‘ইমো’

ওসমানী বিমানবন্দরে কাস্টমসের ছেড়ে দেওয়া সিগারেট জব্দ করলো এপিবিএন!

বিয়ানীবাজারের দাসগ্রামে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

বিয়ানীবাজারের সাদিমাপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুবারক র‍্যালি

ঘোষণাঃ

Translate »