২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে কোরবানির পশুর চামড়ার নামমাত্র দাম!

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/08/chamra-dam.jpg

বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নামমাত্র দামে কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নামমাত্র দামে এসব চামড়া সংগ্রহ করতে পারলেও পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় সেই দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ বাবদ তাদের লাভ হচ্ছে না তেমন একটা। এতে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন তারা। এর কারনে এতিম ও অসহায়দের হকের ভাগে ঘাটতি পড়েছে বলে মনে করেন যারা পশু কোরবানি দিয়েছেন। আসমা খাতুন একজন বিধবা ও অসহায় মানুষ। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে সহযোগিতা পান সবার কাছ থেকে। চামড়ার কম দামের কারণে এবার সহায়তার পরিমাণও সামান্য। হতাশার সুরে এ প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করলেন, গরিবের প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কেন?

মাথিউরা শেখলাল হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে আসা একজন শিক্ষক জানান, কোরবানির পশুর চামড়া পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে যদি বেশি দর পাওয়া যেতো তাহলে এতিম ও অসহায় মাদ্রাসা ছাত্রদের ভাগের অংশটাও বৃদ্ধি পেতো। দারুসসুন্নাহ মুরাদগঞ্জ টাইটেল মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক জানান, গতবার আমরা গড়ে ৩০০ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করেছি। তবে এবার সেই দর পাবো কিনা বলতে পারছি না। তবুও ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করার চেষ্টা করবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার কোরবানিতে বড় একটি অংশের দেশি গরু জবাই করা হয়েছে। দেশি গরুর ভালো ও উন্নত মানের চামড়া বেশি দামে বিক্রির আশায় এবছরও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। তবে এলাকাভেদে দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। কোথাও কোথাও ১০০-১২০ টাকা, আবার কোথাও কোথাও ১৩০-১৬০ টাকায় চামড়া কিনেছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। পানির দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মূল চামড়া ব্যবসায়ীরা সংগ্রহকৃত দামের চেয়ে অল্প বেশি দামে সেই চামড়া কিনতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী।

আব্দুস সাত্তার ও ময়না মিয়া দুজনই মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী। তারা জানান, গতবারের মতো এবারও চামড়া সংগ্রহ করে লাভবান হতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না। কারণ আমার মতো অনেক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়িদের কাছ থেকে মূল চামড়া ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট সামান্য লাভে চামড়া ক্রয় করতে চাইছেন।

তবে এ অভিযোগ নাকচ করে একজন পাইকারি পশুর চামড়া ব্যবসায়ি জানান, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই পশুর চামড়া ক্রয় করছেন। এমনিতেই চামড়া সংগ্রহের মূল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি পুঁজির সংকটের কারণে। অন্যদিকে গত দুই বছর ধরে আড়তদার আর ট্যানারি মালিকদের কাছে এখনো বকেয়া পাওনা রয়েছে।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজারে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

ভয়াল ২১ আগস্ট : বিয়ানীবাজারে আ.লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

মৌলভীবাজার জেলার এডিসি হলেন কানাইঘাটের ইউএনও তানিয়া

সিলেটের হারিছ চৌধুরীসহ দন্ডিত ১৬ জন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ- আটক ১

বিয়ানীবাজারে মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ৩৫ যুবক

ঘোষণাঃ

Translate »