১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পাউন্ডের দরপতনের প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারে! (ভিডিওসহ)

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/08/paund-1200x630.jpg

যুক্তরাজ্যে অব্যাহত পাউন্ডের দরপতনে প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারে। বিয়ানীবাজারসহ সিলেট অঞ্চলের যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর বিষয়ে সংশয়ে রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংক প্রতি পাউন্ড ক্রয় করছে ৯৯টাকায় এবং বিক্রি করছে ১০৭ টাকায়। এতে ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের পাউন্ড বিনিময়ে গত সপ্তাহে কমেছে ৯টাকা। ঈদের পূর্বে হঠাৎ করে পাউন্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় ঈদকে সামনে রেখে চরম বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও তাদের পরিবার-পরিজন।

বিভিন্ন সূত্রমতে, ৬ মাসের ব্যাবধানে পাউন্ডের বিনিময়ে টাকার মূল্য ১৯ থেকে ২০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে পাউন্ডে ১০৮/১০৯ টাকা ছিল। সপ্তাহ ব্যাবধানে তা নেমে এসেছে একশত টাকার নীচে। তাতে চরম বিপাকে পড়ছেন যুক্তরাজ্য নির্ভর বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চেলের যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের পরিবার। পাউন্ডের দরপতন আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার চাহিদা মতো কোরবানির পশু কিনতে পারছেন না। ফলে এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে কোরবানি পশুর হাটে।  ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ইস্যূতে ব্রিটেনে ২৩ জুন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংথ্যাগরিষ্টরা ইইউ ছাড়া পক্ষে রায় দিলে পাউন্ডের দরপতন সবচেয়ে নীটে নেমে আসে যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রতি পাউন্ডের বিনিময় সে সময় ৯০ টাকায় চলে আসায় বিপাকে পড়তে হয় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের। অথচ ২০০৭ সালে মাঝামাঝিতে পাউন্ডের মূল্য ছিল ১৪৮.৭০ টাকা- যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগামী ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে ইইউ থেকে বৃটেন আলাদা হওয়ার পর পাউন্ডের বিনিময়ে বিশাল প্রভাব পড়বে বলে শংঙ্কা প্রকাশ করছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা।

মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসায়ী শামীম আহমদ বলেন, পাউন্ডের দরপতনের কারনে অনেকেই পাউন্ড টাকার সাথে বিনিময় করছেন না। এতে করে স্থানীয় মুদ্রা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। একইভাবে প্রভাব পড়েছে কোরবানি ঈদের বাজারেও। টাকার সাথে পাউন্ড বিনিময় করা হচ্ছে ১০১/১০২ টাকায়।

বিয়ানীবাজারের একাধিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং মাধ্যমে গত কোরবানির ঈদের চেয়ে এবার রেমিটেন্স প্রভাব কম। টাকার সাথে ডলার, বিয়াল কিংবা অন্যান্য মুদ্রার বিনিময়ে স্বাভাবিক থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে কমেছে পাউন্ডের বিনিময় হার। বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে টাকার সাথে পাউন্ড বিনিময় হচ্ছে ৯৯ টাকায়।

মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসার সাথে যুক্তরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অর্থের একটা বড় অংশ ব্যাংকিং মাধ্যমে দেশে আসে। পাউন্ডের দরপতনের কারণে গত কয়েকদিন ধরে দেশের টাকা পাঠানো হার কমেছে। বিয়ানীবাজারের একাধিক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা বলেন, গত বছরের ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন তাদের লেনদেন হতো ৩ থেকে ৪লাখ টাকা। তবে পাউণ্ডের দাম কমায় ও রেমিটেন্স কম আসায় চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওয়াহিদুর রহমান সাকিল বলেন, অর্থনীতির ভাবে বাংলাদেশর অবস্থান দৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। বহি:র্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে বাড়ছে টাকার মানও। তিনি বলেন, আমরা চাই পাউন্ডের মানের কাছাকাছি চলে আসুক আমাদের টাকার মান। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নতি দেখে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত একজন বাংলাদেশী হিসেবে পুলকিত বোধ করছি।

স্ট্যান্ডার্ট ব্যাংক বিয়ানীবাজার শাখা ব্যবস্থাপক নবেল গাঙ্গুলী বলেন, আজ রেমিটেন্স গত দুই দিনের চেয়ে কম এসেছে। একই সাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর পরিমান কম। গত সপ্তাহ থেকে পাউন্ডের বিনিময় হার পড়তি দিকে থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তার ধারণা।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

এবার শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলো বিয়ানীবাজারের রাহাত

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আসলো খলিল চৌধুরী এবি নিকেতনের প্রাথমিক শাখা

প্রেমের টানে ভারতীয় নারী সিলেটে, বাংলাদেশি নাগরিক অপহৃত

অস্ট্রেলিয়ার সড়কে গেল বাংলাদেশির প্রাণ

বড়লেখায় রাতের আঁধারে সড়কের নাম ফলক ভাংচুর!

শিল্পী সমিতিতে শিল্পীদের প্রবেশ নিষেধ!

ঘোষণাঃ

Translate »