২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় আটকেপড়া অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর মৃত্যু- মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/06/shishu-chargesheet.jpg

বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালে আটকে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে সাত দিন বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ। গত ৩০ এপ্রিল বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম। এতে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এদিকে দেশব্যাপী আলোচিত ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র অনেকটা গোপনে আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস আগে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও তা জানেন না মামলার বাদী আকবর আলী। তিনি মারা যাওয়া শিশুটির চাচা। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় যেসব পরিবহন শ্রমিক জড়িত ছিল, যাদের ওই ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দেখা গিয়েছিল- চার্জশিটে তাদের নাম নেই বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো- দেলোয়ার হোসেন, মো. আলী হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কয়েছ আহমদ, আলীম উদ্দিন, মো. জাকির হোসেন রাজন, রয়নুল ইসলাম, জসিম, হেলাল উদ্দিন, ফজল আলী, শামীম, শরফ উদ্দিন ও জুয়েল দাস। তাদের সবার বাড়ি বড়লেখা উপজেলায়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আকবর আলী গতকাল মঙ্গলবার বলেন, পুলিশ আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। চার্জশিট কীভাবে দিয়েছে তাও জানি না। লোকমুখে শুনেছি চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এতে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করছে। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা ওই ঘটনায় জড়িত নয় বলেও দাবি করছে তাদের পরিবার।

আদালতে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম বলেন, এজাহারে কারও নাম ছিল না। অজ্ঞাতনামা আসামি ছিল। মামলার তদন্তকালে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়ায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদী জানেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের ফল ও চার্জশিট দাখিলের বিষয় বাদীকে জানানো হয়েছে।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। অভিভাবকরা শিশুটিকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। পথে বড়লেখা উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামক স্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি আটকে চালককে মারধর করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এখানে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে থাকে। এ অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়ি ছাড়া পেলে শিশুটিকে পাশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নির্মম এ ঘটনার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে শুরু হয় তোলপাড়। ঝড় ওঠে নিন্দার। ঘটনায় জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

ওই ঘটনার তিন দিন পর ৩১ অক্টোবর শিশুটির চাচা আকবর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৬০ থেকে ১৭০ জন শ্রমিককে আসামি করে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করারও জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

মাথিউরা ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা ফ্রান্স’র আহবায়ক কমিটির সভা

নিদনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মেহফুজ আহমেদ

চেয়ারম্যান-মেম্বারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ‘গুজব’

Abu Dhabi T10 league adds Bangladesh flavour

বিয়ানীবাজারে প্রেরণা যুবচক্রের ২য় বর্ষপুর্তি ও নতুন কমিটির অভিষেক সম্পন্ন

বিয়ানীবাজারের এ সপ্তাহের বাজারদর- ফের বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

ঘোষণাঃ

Translate »