১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারের মেয়ে সালওয়া’র সহায়তায় হ্যাকার গ্রেফতার

https://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/05/hacker.jpg

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় খুব বেশি দূর এগোতে না পারলেও নিজে নিজেই প্রযুক্তি-বিষয়ক জ্ঞানার্জন করেছেন সামির আল মাসুদ। তবে স্বীয় অর্জিত বিদ্যা ভালো কাজে না লাগিয়ে জড়িয়ে পড়েন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, শুরু করেন হ্যাকিং। তার টার্গেট ছিল মডেল আর উঠতি বয়সী অভিনেত্রীরা। বুধবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে ২০১৮ সালের মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮-এর প্রথম রানার্সআপ বিয়ানীবাজারের মেয়ে নিশাত নাওয়ার সালওয়ার সহায়তায় আলোচিত এই হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যে পরিচয় দিয়ে মডেল ও অভিনেত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে মাঝে মধ্যেই চ্যাট করতেন সামির। এক পর্যায়ে কৌশলে তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নিতেন নিজের দখলে। বিনিময়ে দাবিকৃত অর্থ না পেলে অশ্লীল ছবি বা লেখা পোস্ট করার ভয় দেখাতো। এভাবে গত এক বছরে সে অন্তত ৩০ জন মডেল-অভিনেত্রীর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ আদায় করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ধরতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮-এর প্রথম রানার্সআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়ার ফেসবুক আইডি হ্যাক করেন সামির। দশ হাজার টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দিয়ে শুরু করেন টালবাহানা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের দ্বারস্থ হন নিশাত। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সামিরকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, নিশাত নাওয়ার সালওয়ারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তির সহায়তায় সামিরকে সনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিয়মিত উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও হ্যাকার সামির আল মাসুদ নিজেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিত। ইন্টারনেট ঘেঁটে নানারকম টিউটেরিয়ালের ভিডিও দেখে দেখে সে হ্যাকিং শেখে। তারপর টার্গেট করতে থাকে উঠতি নারী মডেল ও অভিনেত্রীদের। প্রথমে তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট করা মডেল-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিত এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে টার্গেটকৃত ফেসবুক আইডির নামে নকল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা হতো। একই সঙ্গে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে তারকাদের ফেসবুক আইডিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত।

সাইবার ক্রাইমের কর্মকর্তারা জানান, ফেসবুক আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তার প্রথম কাজ ছিল ওই অ্যাকাউন্টের ইনবক্সে থাকা ব্যক্তিগত ও স্পর্শকতার তথ্য বা ছবি সংরক্ষণ করা। পরে সেসব ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে আইডি ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিত। ফ্যান-ফলোয়ার বা জনপ্রিয়তা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হতো অর্থের পরিমাণ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সামির আল মাসুদ জানিয়েছেন, টার্গেটকৃতদের কাছ থেকে সে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

সাইবার সিকিউরিটির কর্মকর্তারা জানান, এর আগে অভিনেতা ইরেশ যাকের, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার, মারিয়া নূর, পূজা চেরী, শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেমসহ অনেকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সামির।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে সামির আল মাসুদকে কলাবাগান থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই মামলাটিও ছিল ফেসবুকের আইডি হ্যাক করার। প্রায় দেড় মাস জেলে থাকার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও তিনি ফিরে যান আগের পেশায়।

A+ A-

সর্বশেষ সংবাদ

এবার শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলো বিয়ানীবাজারের রাহাত

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আসলো খলিল চৌধুরী এবি নিকেতনের প্রাথমিক শাখা

প্রেমের টানে ভারতীয় নারী সিলেটে, বাংলাদেশি নাগরিক অপহৃত

অস্ট্রেলিয়ার সড়কে গেল বাংলাদেশির প্রাণ

বড়লেখায় রাতের আঁধারে সড়কের নাম ফলক ভাংচুর!

শিল্পী সমিতিতে শিল্পীদের প্রবেশ নিষেধ!

ঘোষণাঃ

Translate »