বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থল বন্দরে দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর মঙ্গলবার ভারত থেকে আমদানি করা হয় ৪০ টন (নন বাসমতি) চাল। বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে সিলেটের কোনো স্থল বন্দর দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চাল আমদানির শুরু হয়।

সোমবার শেওলা স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানী করা মাহিন ট্রেড লিঙ্কের স্বত্বাধিকারি মো. আবুল কালাম জানান- দেশে চাল আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থল বন্দরে দিয়ে চাল আমদানি করছেন। তবে ভারতের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া চালের অতিরিক্ত মূল্য, অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া ইত্যাদি চিন্তা করে এতোদিন সিলেটের স্থল বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে এগিয়ে আসেন নি। তবে দেশে চালের সঙ্কট মোকাবেলায় মঙ্গলবার থেকে শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু করেন তিনি।

চাল আমদানি শুরু হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া এ স্থল বন্দরে আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে প্রত্যাশা আবুল কালামের।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জন করায় ৯৭/৯৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কয়েক দফা বন্যায় ব্যাপক ফসলহানী হওয়ায় চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর কিংবা শুল্ক স্টেশন দিয়ে চাল আমদানি শুরু হলেও বাদ থেকে সিলেটের দুই স্থল বন্দর শেওলা ও তামাবিল শুল্ক স্টেশন ভোলাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার শেওলা স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানির শুরু হলো।

এরআগে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকেও সিলেটের তামাবিল ও শেওলা স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি  চাওয়া হয়। এই দুই স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে লিখিত আবেদন করে চেম্বার। এই অনুমতি পাওয়ার পর রোববার থেকে শুরু হলো আমদানি।

এ ব্যপারে শেওলা স্থল বন্দরের সাব এসিসটেন্ট কোয়ারেনন্টেন্ট অফিসার মামুনুর রশিদ মুন্সি বলেন- গত মাস দুয়েক থেকে দেশের অন্যান্য স্থল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে সিলেট জেলার শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে চাল আমদানি করার সাহস পাননি কেউ। এ অবস্থায় মঙ্গলবার প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ টন চাল আমদানি হয়। সরকারি অনুমোদন থাকায় আমদানিকৃত চাল প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দিয়েছে শুল্ক বিভাগ।

মামুনুর রশিদ মুন্সি বলেন- এভাবে ব্যবসায়ীরা সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে চাল আমদানি করলে বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। এর দ্বারা উর্ধ্বগতির বাজারে স্থানীয়ভাবে চালের দামও কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলতি বছরে কয়েকদফা বন্যার তলিয়ে যায় হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল। এর প্রভাব পড়ে চালের বাজারে। বেড়ে যায় চালের দাম। বর্তমানে মোটা চালের কেজিও ৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। চালের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়ে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে চালের সঙ্কট নেই বলা হলেও বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সরকারের তরফ থেকেও চাল আমদানির জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে।