বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খাসা মৌজায় প্রায় ১১৭ শতক সরকারি জমি  বেশ কয়েক বছর ধরে বেহাত ছিল। খাসা মৌজার কোনাপাড়া এলাকায় এসব সরকারি জায়গা একসঙ্গে দখল করে বসবাস করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কুটু মিয়াসহ আরও ৯টি পরিবারের লোকজন। এই খাসজমিতে সরকারি বিধি অমান্য করে তৈরি হয়েছিল অবৈধ বসতি ও স্থাপনা। চার-পাঁচবার হাতবদল হওয়া এসব সরকারি জমি থেকে এত বছর কোনো খাজনাও আদায় করা যায়নি, ছিল না কোনো সরকারি তদারকিও।

অবশেষে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে অভিযান চালিয়ে জমিগুলো দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসফিকুন নূর অভিযান চালিয়ে জমিগুলো দখলমুক্ত করার পর সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা টাঙিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। দখলমুক্ত হওয়া মোট জমির পরিমাণ ১ একর ১৭ শতক। স্থানীয়ভাবে এসব জমির বর্তমান মূল্য প্রায় অর্ধ শত কোটি টাকা।

এদিকে, দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকার পর সরকারি জমি দখলমুক্ত হওয়ায় বুধবার দুপুরে প্রেসব্রিফিং করে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসন। প্রেস ব্রিফিংকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব বলেন, সরকারি এই জমিতে ৮ ভূমিহীন পরিবারকে রেখে অবৈধভাবে বসবাসকারী অন্যদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।  উচ্ছেদকৃত জায়গায় ৩৫টি ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি ঘর বানিয়ে দেয়া হবে। প্রতিটি পরিবার ২ শতক জায়গার উপর দুইটি বেডরুম এবং রান্নাঘর ও বাথরুম থাকবে। এসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হবে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

ইউএনও মৌসুমী মাহবুব আরও বলেন, উপজেলাজুড়ে অবৈধ দখলকারীরা সরকারি খাস জমিতে দোকানপাট, বাসাবাড়ি, মুরগি ও গরুর খামারসহ বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছে। সরকারি স্বার্থ, সম্পদ-সম্পত্তি রক্ষা এবং সংরক্ষণের জন্য বেদখলে থাকা এসব খাসজমি খুঁজে বের করে উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে উন্নতমানের ধান বীজ উৎপাদনের লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত