মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি হাওরতীরের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে কেটে গেছে সাড়ে ৩ মাস। এমন পরিস্থিতিতে হাওরতীরের বন্যাকবলিত ইউনিয়গুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

সরেজমিন হাকালুকি হাওরতীরে গত ৩দিনে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। হাওর এলাকায় ২ ইঞ্চি পরিমাণ পানি কমেছে বলে জানান বানভাসী মানুষ। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রবাসী সংস্থা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ত্রাণ সহায়তার প্রাপ্তিতে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন।
এদিকে গত ০৪ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া কুলাউড়ায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে হাকালুকি হাওর এলাকায় ওএমএস চালু করার দাবি জানান।

ভুকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, বন্যায় সাড়ে ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন ভরা বর্ষাকাল। বৃষ্টিপাত আরও হবে। বন্যার পানি সাময়িক কমলেও তা আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে এখন খুশি হওয়ার কিছু নেই। বরং হাওরতীরের বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত।

হাওরতীরের জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি জানান, হাওর এলাকায় যখন শতভাগ বোরো ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত ছিলো। গত সাড়ে ৩ মাসে পুরো এলাকার অবস্থা নাকাল। রাস্তাঘাট অবকাঠামো সবকিছু ল-ভ- করে দিয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত কেনো দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না-এটাই অবাক হবার বিষয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন জানান, মন্ত্রীর কাছে ওএমএস’র দাবি জানালে তিনি চালুর ব্যাপারে আশ^াস দিয়েছেন। এখন হাওরতীরের বন্যাকবলিত এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা সময়ের দাবি। সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও চাহিদা মিটছে না।