সাদা শার্ট আর নীল জিন্স প্যান্ট পরে নায়কের ভঙ্গিমায় দাড়িয়ে আছে এক যুবক। ট্যাবলয়েডের পর্দায় ছেলের সেই ছবির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন মা। ছবির মতই তাঁর ছেলে আজ নিস্প্রাণ। মায়ের আদরের বাবুল আর কোনদিন ফিরে আসবেনা। আবদার জানাবেনা ম্যাড়া পিঠা দিয়ে মাংস খাওয়ার।
[image link=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul.png” img=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul.png” caption=” ট্যাব-এ থাকা নাড়িছেড়া ধন অকাল প্রয়াত পুত্রের ছবি দেখছেন বাবুল’র মা- পাশে ভাইপো ইসমাম  “]

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গত ৩০ অক্টোবর সোমবার নরসিংদির কান্দাহার বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাস-মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ছয় যুবকের সর্বকনিষ্ঠজন বাবুল হোসেন। কর্মরত ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌর শহরের কলেজ রোডের জি-ফোন সেন্টারে।

সম্প্রতি আলাপ হয় বাবুলের পরিবারের সদস্যদের সাথে। বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ এর প্রতিবেদকদের সাথে আলাপকালে তারা স্মৃতিচারণ করেন বাবুলকে নিয়ে।

[image link=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul-2.png” img=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul-2.png” caption=” সাগর তীরে সহপাঠীদের সাথে বাবুল  “]

বাবুলের মা আনোয়ারা বেগম (৭০) জানান, আসছে ডিসেম্বরেই বাবুলকে বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই বাবুল বলতো আরও পাঁচ ছয় বছর পর বিয়ে করবে। এই ফাঁকে সে ঘুরবে বিভিন্ন দেশে। আমেরিকা বা কানাডা যাওয়ার বাসনা পোষণ করতো বাবুল। এর জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিল। কিন্তু চার মাস রাশিয়ায় থেকে স্বপ্নের দেশে যাওয়ার কোন সুযোগ করতে না পেরে দেশে ফেরত আসে।

বাবুল অল্প পরিমানে আহার করতো জানিয়ে মা বলেন, “আমার পুয়ায় ম্যাড়া পিঠা দিয়া মাংস খিয়াল করি খাইতো। ঘরো পিঠা বানাইলে দুই তিন দিন বাদেও খোঁজ করতো। কইতো-পিঠা রইছেনি? থাকলে দেও”। এছাড়া, শুটকি মাছ দিয়ে আলু এবং মাছ দিয়ে রান্না করা টমেটোর তরকারি তাঁর প্রিয় ছিল বলে তিনি জানান।

বাবুলের বড় ভাই আজমল হোসেন জানান, বাবুল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো। ব্যস্ততার কারনে কোন ওয়াক্তে জামাতে সামিল হতে না পারলে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতো। এছাড়া তার শখ ছিল নতুন ফ্যাশনের কাপড় পরিধান করা।

[image link=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul-1.png” img=”http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/babul-1.png” caption=” আদরের ভাইপোকে বুকে নিয়ে বাবুলের সেলফি  “]

বাবুলের আদরের ধন ভাইপো ইসমাম। কোথায় বেড়াতে গেলে কারো জন্য কিছু না আনতে পারলেও ইসমামের জন্য নিয়ে আসতো। আদরের চাচাকে ছাড়া কেমন আছে ইসমাম। দাদির পাশে দাঁড়িয়ে চাচ্চুর ছবি দিকে অপলক চেয়ে থাকে অবুঝ এ শিশু। চাচ্চুর জন্য আজো পথ চেয়ে থাকে সে।

বাবুলের প্রিয় রঙ ছিল নীল। কাপড় কিনতে গেলে এই রঙকেই সে প্রাধান্য দিত। নীল রঙকে বলা হয় বেদনার প্রতীক। বন্ধুরা তাই প্রায়ই এ নিয়ে তার সাথে ঠাট্টা করতো। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে সে যেন স্বজনদের নীল রঙে রাঙিয়ে দিল।