সেল্টা ভিগোর স্টেডিয়ামের নাম এস্তাদিও ডি মিউনিসিপ্যাল ব্যালাইডোস। আর এই স্টেডিয়াম বার্সেলোনার জন্য বড় বিপজ্জনক। আগের চার ম্যাচে এখান থেকে জিতে ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা। আবারও ড্র করলো মেসিদের দল, ফল ২-২। মেসির ৭০০ গোলের অপেক্ষা আরও বাড়লো।

আসলে বলা উচিত, পরাজয়ের কিনারা থেকে ড্র ছিনিয়ে আনলো বার্সেলোনা। ২-২ অবস্থায় ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নোলিতো যে গোল মিস করেছিলেন, এমনটি ফুটবলে খুব বেশি দেখা যায় না। এই গোলটি হলে সেল্টা ভিগোই ম্যাচ জেতে ৩-২ গোলে।

তবে বার্সেলোনা শনিবারের এ ম্যাচে জিততে পারতো, জেতাটা তাদের উচিত ছিল। জিততে পারলো না স্রেফ রক্ষণভাগের দোষে। দুবার এগিয়ে গিয়েছিল মেসি-সুয়ারেজ সমন্বয়ে। ষষ্ঠ মিনিটে মেসির কর্নার কিকে পিকের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। ২০ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে মাথা ছুঁইয়ে প্রথম গোল করেন সুয়ারেজ। কিন্তু এর পর পরই সেল্টা ভিগো দুবার গোল বঞ্চিত হয়েছে। একবার বল লেগেছে পোস্টে। আরেকবার বাঁচিয়েছেন গোলকিপার আন্দ্রে টের-স্টেগেন।

এমনিতেই বার্সেলোনা ধীরগতির বিল্ডআপ ফুটবল খেলে। সম্প্রতি সেটি যেন আরও মন্থর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এটির সুযোগ নিয়ে রুশ ফরোয়ার্ড স্মোলভ সমতা এনে ফেলেন (১-১)। তবে ওই যে বার্সেলোনায় আছেন দুই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়- লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ। আবারও তাদের সমন্বয়ে এগিয়ে যায় তারা। মেসির থালায় সাজিয়ে দেওয়া খাবারের মতো বল পেয়ে বার্সেলোনাকে আবারও এগিয়ে দেন সুয়ারেজ দারুণভাবে বল প্লেস করে। ম্যাচের তখন ৬৭ মিনিট।

বার্সেলোনার বেঞ্চের শক্তি খুব একটা ভালো নয়। ওদিকে আরও সাবেক বার্সেলোনা মিডফিল্ডার রাফিনিয়াকে নামিয়ে সেল্টা কোচ অস্কার গার্সিয়া মাঝমাঠকে শক্তিশালী করেন আরও। বারবার বার্সেলোনার বিপৎসীমায় হানা দিচ্ছিল সেল্টা। কিকে সেতিয়েনের দল চাপটা নিতে পারেনি। রক্ষণভাগের দুর্বলতাও বেরিয়ে পড়েছে দৃষ্টিকটুভাবে। এরইমধ্যে ফ্রি-কিক পায় সেল্টা বার্সা-বক্সের বাইরে খুবই বিপজ্জনক জায়গায়। ৮৮ মিনিটে কিক নেন সেল্টা আক্রমণভাগের প্রাণ ইয়াগো আসপাস। মানব দেয়াল পেরিয়ে বলটি অদ্ভুতভাবে বাঁক খেয়ে ঢুকে যায় জালে (২-২)। আর শেষদিকে তো জয়ই হাতছাড়া হয়েছে সেল্টার।

হলুদ কার্ডের খাড়ায় কাটা পড়ে খেলতে পারেননি সের্হিয়ো বুসকেটস। তার জায়গায় একাদশে আসেন তরুণ রিকি পুইজ। বার্সেলোনা একাডেমির এই ছাত্রটির কারণেই মাঝমাঠে একাধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি সেল্টা।

প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সেলোনার যে অবস্থা, তাতে জিততে হলে মেসি-ম্যাজিক লাগবে, ভাগ্যের ছোঁয়া লাগবে। সেসবের কিছুই ঘটছে না। মেসির শটগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে না। এ ম্যাচেই তার দুটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। সাধারণত এমনটি দেখা যায় না। তাই বার্সেলোনাকে আরেকটি ড্র মেনে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ৩২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬৯। আগামীকাল রবিবার এসপানিওলের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ ড্র করলেও তারাই শীর্ষে উঠে যাবে আবার।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে একদিনে সর্বোচ্চ ২৪জন করোনা রোগী শনাক্ত