সিলেটে আইসিউ শয্যার জন্য চলছে হাহাকার। প্রাণের স্বজনকে বাঁচাতে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে প্রিয়জনরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। এমনকি ক্লিনিকেও আইসিউ শয্যা আছে কি সেটি খোঁজ নিচ্ছেন- কিন্তু কোথায় মিলছে না নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা। একই সাথে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সাধারণ শয্যা নিয়েও। পূণ্যভূমি সিলেটে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে- এমনটি ঘুণাক্ষরে কেউ কোনদিন ভাবেননি।

স্বজনদের জন্য আইসিউ এর ব্যবস্থা করতে পরিচিতদেরও সহযোগিতা চাচ্ছেন। কিন্তু যেখানে হাসপাতালগুলোতে আইসিউ শয্যা খালি নেই সেখানে কারো কিছু করার থাকে না- এমনটি ঘটছে গত কয়েক দিন থেকে। বিয়ানীবাজার উপেজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামের ব্যবসায়ী ফাহেদ আহমদ করোনা আক্রান্ত ভাইয়ের জন্য আইসিউ শয্যার জন্য হন্য হয়ে ঘুরছেন। যোগাযোগ করছেন পরিচিতজনদেরভ তিনদিন অপেক্ষার পর একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটলে করোনা আক্রান্ত রাহেদ আহমদের জন্য মিলে আইসিউ। ৬৬ ঘন্টা পর আইসিউ পেলেও রাহেদের অবস্থা সংকটাপন্ন। ফুসফুসের বেশিরভাগ আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর বেঁচে থাকাটাই এখন নিয়তির হাতে। অথচ প্রয়োজনের সময় আইসিউ পেলে হয়তো এমন পরিস্থিতি মূখে পড়তে হতো না রাহেদের পরিবার ও স্বজনদের।

এ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিদিনি শতশত স্বজন। করোনা আক্রান্ত প্রিয়জনকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তারা। সিলেটে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে আসন সংকট দেখা দিয়েছে তীব্র আকারে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশি ভোগান্তি হচ্ছে আইসিইউ বেডের দরকার পড়া মুমূর্ষু রোগীদের জন্য। সাধারণ শয্যাও সহজলভ্য নয়। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ মিলে আইসিউ রয়েছে মাত্র ১০৪/১১৪টির মতো।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে সরকারিভাবে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

সিলেট নগরীর সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সিলেটে করোনারোগী আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকুলান হচ্ছে না এতসব শয্যায়।

সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সাধাারণ শয্যা আছে ১০০টি। বুধবার (২৮ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ৯৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ শয্যাতেই রোগী রয়েছেন। রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় না। এর বাইরে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে আইসিইউ শয্যা খালি হয়। অপেক্ষমাণ থাকা রোগীদের গুরুতর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আইসিইউ শয্যা দেওয়া হয়।

অপরদিকে ওসমানী মেডিকেলের আটটি আইসিইউ শয্যাও রোগীতে পরিপূর্ণ। আর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২০০টি আসনের বিপরীতে ২৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার অভাবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

গণটিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদানের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম সফল হলে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে সংক্রমণের হার অনেকটা কমবে। তখন হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট থাকবে না।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ১৭৭ জন। আর করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৩ জন। এক মাসে বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটাই রেকর্ড।
তথ্য- সিলেট ভিউ ২৪

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বিয়ানীবাজারে লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিনে জেলা পুলিশের অভিযান, ৫২ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা