জলঢুপী কমলার স্বাদ নিতে কার না মন চায়। কিন্তু বাণিজ্যিক চাষাবাদ না হওয়ায় এ কমলার স্বাদ নিতে সৌখিন চাষিরাই একমাত্র ভরসা। তাদের কল্যাণে এখনো জলঢুপী কমলার স্বাদ নেয়ার সুযোগ অনেকের ভাগ্যে জুটে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে জলঢুপী কমলার উঁকিঝুকি সৌখিন চাষিদের বাগানে বাগানে। মূলত বসতবাড়ি ঘিরে বিশাল এলাকা নিয়ে চাষাবাদ হয় জলঢুপী কমলা। বংশ পরম্পরায় সৌখিন এ চাষিরাই টিকিয়ে রেখেছেন রসে টুইটুম্বর জলঢুুপী কমলা। আর সে স্বাদ নিতে বাগানে বাগানে ছুটে যান দর্শনার্থিরা।

জলঢুপী কমলা এখনো পরিপক্ক হয়ে ওঠেনি। কমলার বাকলের (খোসা) রঙ এখন ঘাঢ় সবুজ হওয়ায় পাতার সাথে কমলা মিষে একাকার। নভেম্বরের শেষ দিকে কিংবা ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহে বাইরের বাকল লালচে রঙ ধরলেই রসে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠবে জলঢুপী কমলা।

জলঢুপ এলাকার সৌখিন চাষিদের কাছে জানা যায়, এবার অতিবর্ষণ ও টানা শিলা বৃষ্টির কারণে ফল অনেক কম হয়েছে। তবে গত বছরের মতো বাগানে গান্ধি পোকার উপদ্রব নেই। পোকার আক্রমন না থাকায় চাষিরা এখন অনেক নির্ভার।

[image link=” http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/66.png” img=” http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/66.png” caption=” বাড়ির আঙ্গিনায় নিজের কমলা বাগানে আবুল হোসেন “]

চাষি আবুল হোসেন বলেন, বসতবাড়ির ১৬ একর এলাকা জুড়ে প্রায় তিন হাজার কমলার গাছ রয়েছে। এবার শিলাবৃষ্টির কারণে কমলার ফলন অর্ধেকের নেমে এসেছেন। গত বছর প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করতে পারলেও এবার সে তুলনায় কমলার ফলন কমেছে। আবুল হোসেন বলেন, বছরের শুরুতেই গাছগুলো কচি কমলা ঠাসা ছিল। কিন্তু গত জুন ও জুলাই মাসে টানা শিলা বৃষ্টির কারণে কচি কমলাগুলো ঝরে পড়ে। প্রায় ২০/২৫ বছর বয়সি গাছগুলোতে এবার একটি কমলা নেই।
সৌখিন চাষি জাবেদ আহমদ বলেন, বাগানের ৫ হাজার কমলা গাছ থাকলেও অধিকাংশ গাছের কমলা ঝরে গেছে। তারপরও আশানুরুপ ফলন হয়েছে। এবার বাগানে কোন ধরনের পোকা আক্রমণ করেনি। এতে আমরা স্বস্থিতে রয়েছি।

স্থানীয় সাংবাদিক রাজু ওয়াহিদ বলেন, জলঢুপী কমলা আরও একমাস পর স্থানীয় বাজারে আসবে। কিন্তু পৌরশহরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরলে জলঢুপী কমলা বলে ব্যবসায়ী ভারতীয় কিংবা শ্রীমঙ্গলের কমলা বিক্রি করছে। বিক্রি করা কমলার স্বাদ কোন অবস্থায় জলঢুপী কমলার ধারে কাছে নেই।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, অতিরিক্ত বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টির কারণে জলঢুপী কমলার ফলন গত বছরের চেয়ে কম। তবে এবার বাগানগুলো পোকা আক্রমণ করেনি। তিনি বলেন, চাষিদের পোকা দমন ও বাগান পরিচর্যার বিষয়গুলো হাতে নাতে শিখিয়ে দেয়ায় তারা উপকার পেয়েছে।