বিয়ানীবাজার পৌরশহরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতি মাসেই দুই-চারটি মোটরসাইকেল চুরি যেন প্রবাসী অধ্যুসিত এই অঞ্চলের জন্য নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গত  বুধবার রাত নয়টার দিকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের নিমতলাস্থ আলফা ক্লিনিকের নিচ থেকে আব্দুর রব সুহেল নামে এক শিক্ষকের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ চুরির সবটুকু দৃশ্য আলফা ক্লিনিকের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় দেখা গেলেও চোরকে শনাক্ত করা যায়নি।

চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি মালিক আব্দুর রব সুহেলের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার। তিনি শাহবাজপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। তার গাড়িটি সেল রিসিটের, রেজিস্ট্রেশন এখনো হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। চুরি যাবার তিনি এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের নিকট একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুর রব সুহেল জানান, অসুস্থ ছেলে শিশুকে নিয়ে আলফা ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন তারা। বুধবার রাত ৯টার দিকে তার ছোটভাই মোটরসাইকেল যোগে টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার নিয়ে ক্লিনিকে আসেন। ভেতরে প্রবেশ করার আগে ক্লিনিকের নিচের পার্কিংয়ে ডিসকভার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলটি পার্ক করে রাখেন। কেবিনে টিফিন দিয়ে ১০ পর যথাস্থানে গাড়িটি দেখতে পাননি। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে এটি না পেয়ে আলফা ক্লিনিকের সিসি ক্যামেরায় একজন অজ্ঞাত পরিচয়ধারী যুবককে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। এসময় চুরির কাজে সহযোগিতাকারী আরও দুই যুবককেও সিসি ক্যামেরার দৃশ্যে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী আব্দুর রব সুহেল আরও বলেন, আমি একজন স্কুল শিক্ষক। শিক্ষকতা করে নিজের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করি। অনেক কষ্টে এককালীন ও কিস্তি পরিশোধের মধ্য দিয়ে এই মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেছিলাম। কিস্তি পরিশোধ হলেও এখনো গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। তিনি নিজের মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোরচক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

এদিকে, বিয়ানীবাজারে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন যাচ্ছে মোটরসাইকেল মালিকদের। তবে একাধিক চুরির দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধারণ হলেও এসব ঘটনায় চোরচক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের নাগরিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেগুলোর অর্ধেকেরও বেশি রেজিস্ট্রেশনবিহীন। তাছাড়া এসব চুরির ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে বিয়ানীবাজার থানায় লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় হাতেগোনা দুই-চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার খুব একটা নেই বললেই চলে।

থানা পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত একাধিক চোর সেন্ডিকেটকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  তবে মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত অন্য সেন্ডিকেটদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় জানান, সিসিটিভি ফুটেজে মোটর সাইবেল চুরির দৃশ্য ধরা পড়লেও চোর শনাক্ত না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে এরা বাইরে থেকে আসে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

খোলা বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি, সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পেয়ে খুশি ক্রেতা