সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার নির্ধারিত ১৪৯ ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকল কেন্দ্রেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শুরু হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে দুপুরের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার দুপুরেই সকল নির্বাচনী সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৩ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম নির্ধারিত ১৪৯ ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়। একইসাথে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্ব স্ব কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে কোনো নির্বাচন এলেই সেটা সুষ্ঠু হবে কিনা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। থাকে নানা কৌতূহল-আশঙ্কা। এমনকি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া না হওয়ার মাঝেও ফলাফলে থাকে নানা হিসেব-নিকেশ। তবে সাধারণ মানুষের সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সিলেট ৩ আসনের উপ-নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রিটানিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম জানান- উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকছে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত রয়েছেন ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য।

এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ২১টি মোবাইল ফোর্স, ১২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ১২টি টহল টিম ও ১২ প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবির সঙ্গে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে মনিটরিং করছেন ৩ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে ১৪ জুলাই ভোটের তারিখ দেয় ইসি। ওইদিন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় দলটি ভোট পেছানোর দাবি করে। সেই দাবি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে ২৮ জুলাই ভোটের পুনর্তারিখ দেয় কমিশন।

কিন্তু একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভোটের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে কমিশন গত ২৩ আগস্ট ভোটের নতুন তারিখ দেয় ৪ সেপ্টেম্বর। সেই তারিখ অনুযায়ী আজ চলছে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের আতিকুর রহমান আতিক, সতন্ত্র থেকে মোটর কার প্রতীকের বিএনপি থেকে বহিস্কৃত ও সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ছাড়া বাকি ৩ জনই ভোট চেয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেরিয়েছেন।

তবে সিলেট-৩ আসনের সচেতন ভোটারদের মন্তব্য একটাই- ‘লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি’। আপাতত সবাই নৌকা আর লাঙ্গল নিয়ে বাজি ধরলেও অন্য এক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যে বাজিমাৎ করতে পারেন; তাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বিয়ানীবাজারে রুমন এন্টারপ্রাইজের যাত্রা শুরু, ভেজালমুক্ত জ্বালানী সরবরাহের প্রতিশ্রুতি