অবসর ভেঙ্গে আবার রাজনীতিতে ফিরছে সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু। একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। খোদ বিএনপি থেকেই তিনি একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে। অথচ বছর দুয়েক আগে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন। বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিএনপি হাই কমান্ডের নিদের্শে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু একাদশ সংসদে নির্বাচন করার জন্য তোড়জোর শুরু করছেন বলে বিএনপি দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে।  আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটগতভাবে অংশ নিলে দলের হাইকমান্ড থেকে সাবেক সংসদ সৈয়দ মকবুল হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হবে- এসব আলোচনায় সরব বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তবে খোদ সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। অবসর ভেঙ্গে রাজনীতিতে ফিরে আসার তার কোন ইচ্ছে নেই জানিয়ে বলেন, আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে কখনো নির্বাচনে অংশ নেইনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বা জোট থেকে সিলেট ০৬ আসন থেকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি ফয়ছল আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুর রশিদ বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। একই সাথে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি নিজেদের দিকে রাখতে সভা, সমাবেশ ও ইফতার পার্টি থেকে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। এ আসন থেকে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর জেলা দক্ষিণের আমির মাও. হাবিবুর রহমানও জোট থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামকে কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হবে তার উপর নির্ভর করবে জোটগত না দলগতভাবে প্রার্থী নির্ধারীত হবে তার উপর।

বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচুকে নিয়ে আলোচনা করলেও সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা এ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়। তাদের মতে, সৈয়দ মকবুল হোসেন লিচু বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। তিনি গত বছর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে চেয়ারপার্সন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি দায়িত্বশীলদের নিয়ে বিষোদগার করেছেন, মিডিয়া ও জনসমক্ষে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাকে এ আসন থেকে দল মনোনীত করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিমুখ হবেন এবং এ আসন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। সময় এসেছে দল, এলাকা এবং ব্যক্তি ইমেজ ও পরিচিত দেখে এমপি পদে মনোনয়ন দেয়ার।

বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা দলকে সামন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আগ্রাসন থেকে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন তাদের মধ্যে কাউকে এমপি পদে সিলেট ০৬ আসন থেকে মনোনয়ন দিলেই কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত হবে। আমরা চাই সংগঠনের প্রতি আন্তরিক এরকম প্রার্থী দল থেকে মনোনয়ন পাবেন। তিনি সৈয়দ মকবুল হোসেন লিচু সম্পর্কে বলেন, সাবেক এ সংসদ সদস্য বিএনপিকে অনেক আগে বিদায় জানিয়েছেন এবং রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। বিএনপি নেতাকর্মীর উপর এ সরকারের জুলুম নির্যাতনে তিনি এগিয়ে আসেননি। দেশের দুঃসময়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তাকে এমপি পদে দল মনোনয়ন দিলে সেটা দলের জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ থেকে যোগাযোগ করা হলে সৈয়দ মকবুল হোসেন বলেন, রাজনীতিকে বিদায় বলেছি। আমার বয়স এখন ৭৪। এ অবস্থায় আমি আর রাজনীতিতে ফিরতে আগ্রহি না। কোনভাবে সংসদ নির্বাচন করার ইচ্ছাও আমার নেই। এখন যদি আমার নাম লোকের মুখে মুখে থাকে সেটা আমার প্রতি মানুষের ভালবাসা থেকেই হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে এ আসনে সবার আগে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম উচ্চারীত হবে- ঠিক একইভাবে সংসদ নির্বাচন আসন্ন হলে বিএনপি ও সাধারণ মানুষ আমাকে নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আমি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র পদে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোন ইচ্ছা আমার নেই। কেউ চাইলেও আমি নির্বাচন করবো না। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার প্রথা বাংলাদেশে নেই। আমি প্রথম ব্যক্তি রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছি।