প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে হচ্ছে না বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। আর ২০১০ সালের পর হয়নি কমিশনের কোনোও বৈঠক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে কয়েক দফায় দিল্লিতে চিঠি পাঠালেও সাড়া মেলেনি। অবশেষে বরফ গলছে, চলতি মাসেই হচ্ছে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক। কুশিয়ারা নদীর পানি সেচের জন্য কাজে লাগাতে সীমান্ত এলাকায় খাল খনন করতে চায় বাংলাদেশ, এজন প্রয়োজন ভারতের সায়- এ বিষয়টি অনুষ্ঠিত বৈঠকের অন্যতম আলোচ্যসূচি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত সফর করবেন। এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে তাঁর। এ বৈঠকের আগেই যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে।

বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে প্রথম বসবেন উভয় দেশের সচিবরা। তাঁদের অগ্রগতির ওপর পরে হবে উভয় দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

এ বৈঠকের বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমরা যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক চাচ্ছি। চিঠিও গেছে কয়েকবার। হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যাওয়ার আগে বৈঠকটি হলে ভালোই হবে।’

বহুল প্রতীক্ষিত এ বৈঠকে তিস্তার পানি ভাগাভাগির চুক্তিতে জোর দেবে বাংলাদেশ। অভিন্ন নদী মনু, মুহুরী, গোমতী, খোয়াই, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিবণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বৈঠকে। ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরার জন্য পানি উত্তোলনের বিষয়টিও চূড়ান্ত হতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে সেচের জন্য কাজে লাগাতে চায়। কুশিয়ারার পানি আনতে সিলেট সীমান্তে একটি খাল খনন করতে চায় বাংলাদেশ। ‘রহিমপুর খাল’ নামের এই খালটি সীমান্তবর্তী এলাকায়। বেশ কয়েক বছর আগে এই খাল খননের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। কুশিয়ারা নদীর উৎসমুখে খননকাজ করতে গেলে বাধা দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এরপর বন্ধ হয়ে যায় খননকাজ। মূলত জকিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষির সুবিধার্তে খাল খনন করতে চায় বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়েছে।

এবারের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে খাল খননে দিল্লির সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করবে ঢাকা। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিস্তার পানি ভাগাভাগির চুক্তি বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। আরও ছয় নদীর পানি বণ্টনেও কিছু অগ্রগতি হওয়া দরকার। এ ছাড়া কয়েক হাজার একর জমিতে সেচের জন্য কুশিয়ারা থেকে পানি দরকার। কুশিয়ারা নিয়ে কিছু অগ্রগতি হয়তো হতে পারে।’

কুশিয়ারা নদীর উৎস হচ্ছে বরাক নদী। বরাকের উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুরের উত্তরে আঙ্গামীনাগা পাহাড়। সেখান থেকে বরাক প্রবাহিত হয়ে দেশটির কাছাড় জেলা ভেদ করে বদপুর হয়ে সিলেটে প্রবেশ করেছে। সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশিদ হয়ে বরাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে দুটি ভিন্ন শাখায় প্রবাহিত। এর একটি শাখা হচ্ছে সুরমা নদী, অপরটি কুশিয়ারা নদী। কুশিয়ারা প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীর উৎসস্থলে পতিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। ২০১০ সালের মার্চে কমিশনের ৩৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভারতের অনীহায় হয়নি কোনো বৈঠক।

‌বিয়ানীবাজারে পুরাতন মোটরবাইক ক্রয়-বিক্রয় সহ এক্সচেঞ্জের সুযোগ!