সিলেট মাদার কেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা ’ ও ডা. সৈয়দা তৈয়বা বেগমের ‘ভুল চিকিৎসায়’ দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী-স্বজনদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

রোববার (২৭ ডিসেম্বর) এ উভয়পক্ষকে নিয়ে নগরভবনে সালিশ-বৈঠকে বসবেন সিসিক মেয়র।

এর আগে নগরীর মাদার কেয়ার ক্লিনিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ডা. সৈয়দা তৈয়বা বেগমের ভুল চিকিৎসায় দক্ষিণ সুমরার সিলাম তেলিপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আজির উদ্দিনের স্ত্রী সুলতানা বেগমের (২৮) মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে।

স্বামীর অভিযোগ, সুলতানার আগের দুটি ছেলের জন্ম হয়েছিল নরমাল। তিনি তৃত্বীয় সন্তান নেয়ার প্রথম থেকেই গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দা তৈয়বা বেগমের তত্বাধানে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। বর্তমানে তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তানের বয়স হয়েছিল ৬ মাস। এই অবস্থায় আজির উদ্দিন স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন ডাক্তার তৈয়বার সাথে।

এক মাস আগে ডা. তৈয়বা তার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট মাদার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে ৩ দিনের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন সুলতানা। পরবর্তীতে গত বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) তার স্ত্রীর শারিরীক অবস্তার অবনতি ঘটলে ডা. তৈয়বার সাথে যোগাযোগ করেন আজির উদ্দিন। তখন তিনি সুলতানাকে মাদার কেয়ার হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি করানো জন্য বলেন। ভর্তি হওয়ার পরে ডাক্তার তৈয়বা বেশ কিছু টেস্ট করিয়ে বলেন, গর্ভের বাচ্চা সুস্থ আছে।

পরে সুলতানার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. তৈয়বাকে ফোন করেন। তবে ডা. তৈয়বা আসতে অনেক দেরি করেন। এ সময়কালে রোগীর আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

ডাক্তার তৈয়বা এসে রোগীর স্বামী আজির উদ্দিনকে বলেন, বাচ্চা ভেতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং রোগীর প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। তাই দ্রুত ১২ থেকে ১৫ ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। তাৎক্ষণিক রোগীর স্বামীসহ স্বজনরা ৫ ব্যাগ রক্ত প্রদান করেন। এর কিছুক্ষণ পর ডা. তৈয়বা বলেন, রোগীকে বাচাঁতে হলে ডিএনসি করতে হবে।

রাত ৩ টার দিকে ডাক্তার তৈয়বা বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো না। তার বাাঁচার সম্ভাবনা ৪০ ভাগ। তাড়াতাড়ি অন্য কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে নিতে হবে। তখন সুলতানাকে নগরীর পার্ক ভিউ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে সুলতানা বেগম পার্ক ভিউ হাসপাতালের আইসিইউ-তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ভুল চিকিৎসায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে স্বামী আজির উদ্দিন বলেন, পার্ক ভিউ হাসপাতালে যখন তার স্ত্রীকে নেয়া হয়, তখন পেট দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছিল। আর তখন তিনি পার্ক ভিউ হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলে ওই ডাক্তার বলেন, গর্ভের বাচ্চা এখনও ৬ মাসের। এ সময় এত বড় অপারেশন করা বিপজ্জনক। আর আইসিইউতে আনা হয়েছে হার্টের সমস্যার জন্য। অন্য কিছুর জন্য নয়। যা ঘটার আগেই ঘটেে গেছে।

আজির উদ্দিন আরো জানান, পার্ক ভিউ হাসপাতালে যখন রোগীকে প্রেরণ করা হয়। তখন ডা. তৈয়বা চিকিৎসার কোনো কাগজ প্রদান করেননি। তিনি শুধু মাদার কেয়ার হাসপাতালের পেডে কী লিখে দিয়েছিলেন। ফলে পার্কভিউ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বার বার চিকিৎসার ফাইল খুঁজলে তা দেয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তার স্ত্রী মৃত্যুর পর বার বার চিকিৎসার কাগজপত্র চাইলেও ডা. তৈয়বা বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করেননি।

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সুলতানার মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। গোসলের সময় সুলতানার পেটের তিন স্থানে কাটার দাগ দেখা গেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত সুলতানার স্বজনরা মাদার কেয়ার ক্লিনিকে এসে বিক্ষোভ করেন এবং স্বামী আজির উদ্দিন ক্লিনিকের অভ্যর্থনা কক্ষে তার অবুঝ দুই শিশুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

পরে তিনি সমাধানের লক্ষ্যে রোববার সকাল ১১টায় উভয়পক্ষকে নিয়ে নগরভবনে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা মাদার কেয়ার ক্লিনিক ত্যাগ করেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

কুসংস্কার ও প্রতিবন্ধকতা জয় করে সফল নারী উদ্যোক্তা বিয়ানীবাজারের হেনা