গোলাপগঞ্জে কবর খননের স্থানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় পৌর মেয়র ও ওসিসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ফাকা গুলি ও টিআরসেল নিক্ষেপ করে। এসময় সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের প্রায় ৫ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলের উভয়পাশে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। রাত আটটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদেও মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিরোধ নিরসন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে তৎপর ছিলেন।

আজ বিকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলাবাড়ী দক্ষিণপাড়ার এক শিশুর লাশ দাফনের জন্য ফুলবাড়ী বড় মোকাম সংলগ্ন গোরস্থানে তার আত্মীয়-স্বজনরা কবর খনন করেন। কবর খননের কাজ শেষ হলে পূর্বপাড়ার জনৈক ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে বলেন যেখানে কবর খনন করা হয়েছে এ স্থানটি পূর্বপাড়ার লোকজনের জন্য নির্ধারিত। এতে একই গোরস্থানের অন্য স্থানে কবর খনন করে আবুল কালামের কন্যা ফারজানা আমিন লিমা (১৩) এর লাশ দাফন করা হয়। ফুলবাড়ী পূর্বপাড়ার জনৈক ব্যক্তির আপত্তির কারণে দক্ষিণ পাড়ার লাশের কবর খনন করার পরও ঐ কবরে লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি- এমন সংবাদে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এতে তারা মারমুখি অবস্থান নিয়ে আপত্তি দানকারীকে খুঁজতে থাকে। বেলা অনুমান ৩টায় উভয়পক্ষের লোকজন মাত্র কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয় বলে থানা সূত্রে জানা যায়। এতে উভয়পক্ষের ৫০/৬০ জন লোক আহত হন। বিরোধ থামাতে গিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী ইটের আঘাতে তার বাম পা কেটে যায়। এছাড়া উভয় পক্ষকে শান্ত করতে গিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও প্যানেল মেয়র হেলালুজ্জামান হেলাল ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উভয় পক্ষ সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে মুখোমুখি অবস্থান নিলে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ প্রচন্ড গরমে চরম দূর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও মোতায়েন করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

এদিকে সংঘর্ষে আহতদের সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় অবিযোগ দায়ের না করলে পুলিশ এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে পারে।