সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। সে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার আতঙ্কে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তিন মাস পর জেলা ও মহানগর বিএনপির আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরও পাঁচ মামলা হয়েছে। একই দিনে কোতোয়ালি ও জালালাবাদ থানায় দুটি ও অন্য তিনটি মামলা হয় শাহপরান, বিমানবন্দর ও দক্ষিণ সুরমা থানায়। নতুন এ মামলাগুলোর পর স্থানীয় বিএনপিতে নতুন করে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নগরীর যতরপুরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সহসভাপতি আবদুল কাহির চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি সুদীপ জ্যোতিকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর সুবহানীঘাট যতরপুর এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের বাসা থেকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান মুন্নাসহ ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় তাদের গ্রেফতারের সময় তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তাদের সবাইকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, আবুল কাহের শামীমের বাসা থেকে পুলিশের ওপর হামলা হয়।

এ মামলাকে ‘সাজানো’ ও ‘হয়রানিমূলক’ অভিযোগ করে এক বিবৃতিতে সিলেট বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, গত ১৬ আগস্ট পুলিশের ওপর হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ মামলায় অন্যতম আসামি মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক জানিয়েছেন, সেদিন তিনি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে পুলিশের ওপর হামলায় সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এ মামলার ২৭ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা

আনোয়ার হোসেন রাজু হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে দাবি করেছেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর নগরীর আখালিয়া এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন এসআই পরিমল চন্দ্র দাস। এ মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন ও শহীদ আহমদ ছাড়াও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমনসহ ৫৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। একই অভিযোগে শাহপরাণ থানায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন এসআই বেণু চন্দ্র দেব। বিমানবন্দর থানায় দায়ের অপর মামলায় আসামি ৫০ জন।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন অভিযোগ করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।