সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ২০২৩ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় চেম্বার কনফারেন্স হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদ।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি চেম্বারের সকল সদস্যগণকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানান। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সকল মন্ত্রীবর্গের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এতদাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ সহ শিল্প ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি সিলেটের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আলোকে চেম্বারের পক্ষ থেকে ২১টি প্রস্তাবনা তৈরী করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীবর্গের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ইন্টার কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপন, ইসলামপুরে অবস্থিত বিটিএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন সিলেট টেক্সটাইল মিলের জমি প্লট আকারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের বরাদ্দ প্রদান, সিলেট থেকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল রপ্তানির লক্ষ্যে সিলেটে প্যাকিং হাউজ ও সার্টিফিকেশন ল্যাব নির্মাণ, সিলেট-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ৬ লেনে রূপান্তর, সিলেটে এনআরবি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা, সিলেটের পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটাতে “সিলেট পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” গঠন, শেওলা স্থলবন্দরের নিকটবর্তী স্থানে স্টোন ক্রাশিং জোন স্থাপন, সিলেটে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে নতুন একটি বিসিক শিল্প নগরী স্থাপন, ভোলাগঞ্জ স্থল শুল্ক স্টেশনে ইমিগ্রেশন চালু, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে সিলেটকে এগিয়ে নিতে রেলসেবার মান উন্নয়ন, সিলেট-ঢাকা ও ঢাকা-সিলেট রুটে বাংলাদেশ বিমানের সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট প্রতিদিন চালু ইত্যাদি।

চেম্বার সভাপতি তাহমিন আহমদ ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ করদাতাদের অভিনন্দন জানান।

সভায় সদস্যবৃন্দ বর্তমান কমিটির কার্যক্রমের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন এবং ব্যবসায়ীদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর জন্য সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। সদস্যগণ নবীন উদ্যোক্তদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন অব্যাহত রাখা, ফুটপাতের অবৈধ হকারদের উচ্ছেদকরণ, কীন ব্রীজ দিয়ে মালামাল পরিবহনের জন্য ভ্যানগাড়ি ও অন্যান্য হালকাযান চলাচল চালু রাখা, কালিঘাট ও মহাজনপট্টি এলাকায় রাস্তার ডিভাইডার অপসারণ, পাথর উত্তোলন পুণরায় চালু সহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সভাপতি তাহমিন আহমদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং সদস্যগণের প্রস্তাবনা ও পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় আলোচ্যসূচী অনুযায়ী ২০২২ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, ২০২৩ সালের বার্ষিক কার্যক্রম ও ২০২২-২০২৩ সালের অডিট রিপোর্ট অনুমোদিত হয় এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অডিটর নিয়োগ করা হয়। এছাড়াও সভার সাংগঠনিক আলোচনায় চেম্বারের সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ৫,০০০ জন থেকে সর্বসম্মতিক্রমে সীমাহীন আকারে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সহ সভাপতি মোঃ আতিক হোসেন, পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, জিয়াউল হক, হুমায়ুন আহমদ, মুজিবুর রহমান মিন্টু, আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী (রাজিব), ফাহিম আহমদ চৌধুরী, দেবাংশু দাস, কাজী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ সারোয়ার হোসেন ছেদু, সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, সাবেক সহ সভাপতি ইফতেখার আহমদ সোহেল, সাবেক পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র সদস্য আব্দুল মালিক মারুফ, সচিব মোঃ গোলাম আক্তার ফারুক, সিলেট চেম্বারের সাবেক নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।