সিলেটে প্রায় ৭ ঘন্টার মধ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা অতিপ্রাকৃতিক। অর্থাৎ, এরকম বৃষ্টি সাধারণত হয় না। এমন তথ্য দিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী।

জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে সিলেট নগরীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেকের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে পানি। এতে সমালোচনার মুখে পড়েন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগর ভবনে জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মেয়র আরিফের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সভায় শনিবার রাতের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের বর্ণনা দেন সিলেটের আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, রাত ১১টা ২ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ১২টায় অর্থাৎ, মাত্র ৫৮ মিনিটে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওইদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। যা সাম্প্রতিক সময়ে কম সময়ে বেশি পরিমাণ বৃষ্টির রেকর্ড। মাত্র ৬ ঘন্টা ৫৮ মিনিট সময়ে ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড অতিপ্রাকৃতিক বিষয়।

কম সময়ে এতো বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় এই আবহাওয়াবিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি বছরের এমন ঘটনা আরো ঘটতে পারে।

অনুষ্ঠিত সভায় সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সিলেটে অতিবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবাইকে ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে।

সিসিক মেয়র বলেন, শনিবার রাতে অল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির ফলে সাময়িক দুর্ভোগ হয়েছে নগরবাসীর। এমন পরিস্থিতির আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তবে আবহাওয়া অফিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, এ মাসেই বেশি ঘনত্বের বৃষ্টিপাতের আরো সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আমরা আগাম সতর্কতামূল ব্যবস্থা ও নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেছি।