গত বছরের ৬ নভেম্বর নিখোঁজ হন সিলেটের যুবক জগলু মিয়া। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কিন্তু সন্ধান পায়নি তার পরিবার। অবশেষে প্রায় আট মাস পর জগলুর খোঁজ মিলেছে কলকাতায়।

জগলু মিয়ার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুরে। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তার বাবার নাম চান্দ মিয়া। গত বছরের ৬ নভেম্বর জগলু নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ ডিসেম্বর মারা যান চান্দ মিয়া। তবে ছেলের আশায় পথ চেয়ে আছেন মা মনোয়ারা বেগম।

জানা গেছে, জগলু মিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানের চেষ্টায় চালায় পরিবার। কিন্তু কোনো খোঁজ পায়নি। গত মার্চের মধ্যভাগে কলকাতায় জগলু মিয়াকে পাওয়া যায়। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো হয়। পরে বিষয়টি জানতে পারে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব (হ্যাম রেডিও)।

সংবাদমাধ্যমকে যেমনটি বলছিলেন হ্যাম রেডিওর সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস, ‘গত ১৫ মার্চ কলকাতার সিআইটি মোড়ে জগলু মিয়াকে পাওয়া যায়। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে বেলেঘাটার সেন্টার ফর আরবান হোমলেসে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলেঘাটা থানা পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়। পরে জগলুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় কলকাতার নামী মানসিক হাসপাতাল পাভলভে। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলে তাঁর। এরপর কলকাতার ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাব বা হ্যাম রেডিওকে বিষয়টি জানানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জগলু মিয়ার কথায় সিলেটের আঞ্চলিকতার টান থাকায় বাংলাদেশের অ্যামেচার রেডিও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপরই তদন্ত করে জানা যায়, ওই যুবকের বাড়ি সিলেটের সুলতানপুরে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বেখেয়ালে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি।’

এদিকে, বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি গত মঙ্গলবার জগলু মিয়ার বাড়ির খোঁজ পায়। পরে তার মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে তাকে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ করে দেয় তারা।

জগলুর বড় ভাই ফুজেল আহমদ জানান, এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরেও একবার নিখোঁজ হয়েছিলেন জগলু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে মৌলভীবাজারের শমশেরনগরে পাওয়া যায় তখন।

এদিকে, জগলু মিয়াকে দেশে ফেরত আনতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সহযোগিতা চায় তার পরিবার।

ফুজেল আহমেদ বলেন, ‘জগলু মিয়াকে দেশে ফেরত আনতে আমরা সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এখন আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইছি।’

এদিকে, জগলু মিয়াকে দেশে ফেরত আনতে আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা এড়াতে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে তার পরিবার। গত মঙ্গলবার তার ভাই বাবুল মিয়া বালাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. লুৎফর রহমান।