আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিপক্ষে সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকালে ছাত্রলীগ নেতা টিটু চৌধুরী এবং ডায়মন্ডের নেতৃত্বে এ হামলা ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ হোস্টেল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অনুসারী হোসেইন গ্রুপ ও টিটু গ্রুপের মধ্যে বুধবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাতাহাতি হয়। রাতে হোস্টেলে দু’গ্রুপ অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় টিটুর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন ছাত্রলীগ ক্যাডার অতর্কিত হামলা চালায় কলেজ হোস্টেলে। এসময় হোস্টেলের ৪ ও ৫ নম্বর ব্লকের শতাধিক কক্ষের দরজা জানালা ভাংচুর করে। বেশ কয়েকটি কক্ষও ভাংচুর চালায় তারা। প্রায় একঘণ্টা ভাংচুরের পর তারা চলে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং কলেজ প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। এ নিয়ে হোসেইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জিদান আল মুসা জানান, বুধবার রাত থেকেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।  রাতে পুলিশি তৎপরতা থাকায় চলে গেলেও বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ফের এসে তারা এ ঘটনা ঘটায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত। ভাংচুরের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এর জের ধরে আরহামের পক্ষ নিয়ে হোসাইন গ্রুপের নেতাকর্মীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান টিটু  চৌধুরী এবং ডায়মন্ড। পরে টিটু এবং ডায়মন্ডকে টিলাগড় ধাওয়া দেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ধরণের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ও হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমসি কলেজ ও হোস্টেলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে জরুরি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হামলা ভাংচুরের ঘটনায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ জানান, উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।