সিলেট নগরীর কাজীটুলায় গৃহবধূ সৈয়দা তামান্না বেগমকে হত্যা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এজাহার নামীয় ২নং আসামি এমরানকে (৩০) নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত এমরান বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার চরহোগলা (পাতিয়া চর উত্তর) গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা জানান, পুলিশ মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে পুলিশ এজহার নামীয় আসামি এমরান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার এমরানকে রিমান্ডে চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সোমবার (২৩ নভেম্বর) রাতে নিহতের ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা (মামলা নং ৫৮) দায়ের করে। মামলায় নিহতের স্বামী মো. আল মামুনসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মামুন ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- এমরান, পারভীন, মা্হবুব সরকার, বিলকিস ও শাহনাজ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরের দিকে নগরীর কাজীটুলার অন্তরঙ্গ ৪ নং বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গৃহবধূ তামান্নার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মরদেহের গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে ব্যবসায়ী আল মামুনের সাথে তামান্নার বিয়ে হয়।

পুলিশের ধারণা, স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী এবং রোববার রাতের কোনো এক সময় তামান্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলেও ধারণা পুলিশের।

জানা গেছে, তামান্নার সাথে বিয়ের আগেও আরেকটি বিয়ে করেছিলেন মামুন। মামুনের বিরুদ্ধে আগের স্ত্রীর দায়ের করা মামলাও রয়েছে। আগের স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে তার।

মো. আল মামুনের মুল বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার হোগলারচরে। তিনি নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল-মারজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আর তামান্না বেগম দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামে। তবে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার এমসি একাডেমি সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।