সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মান করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এটা রেখে কিন ব্রিজের পাশে সুরমা নদীর উপর আরেকটা ব্রিজ করা হবে। এর পরিকল্পনা শেষ করে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। এতে যানজট নগরীর অনেক কমে আসবে।

শনিবার বিকেলে সিলেটে প্রায় ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিটিশ আমলে সুরমা নদীর উপর লোহার কাঠামোর দৃষ্টিনন্দন কিনব্রিজ নির্মাণ করা হয়। টানা দুই বছর নির্মাণকাজ শেষে ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন অসম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ হয় ‘কিনব্রিজ’। প্রায় ৯ দশক ধরে সচল সেতুটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদীর ওপর প্রথম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেতুটি ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম দফা সংস্কার করেছিল। এরপর আর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে এই সেতু।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কিনব্রিজ ভেঙে এই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে সে সমসয় ঐতিহ্য হিসেবে কিনব্রিজটি না ভাঙার দাবি উঠে। এরপর ঝুলন্ত সেতু প্রকল্পও আটকে যায়।

শনিবার বিকেলে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, সিলেটের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে সিলেট।
 
মন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো সেই সড়ক দিয়ে জাতীয় মহাসড়কে সহজেই পৌঁছাতে পারবে। এতে সিলেট নগরীর যানজট কমবে এবং কমে আসবে দুর্ঘটনা। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, কুমারগাঁও-এয়ারপোর্ট সড়ক প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ‘কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ অনুমোদন পায়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।

সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। তবে সড়কটি বেহাল। প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কটি নির্মাণ করা হয় ২০১২-১৪ অর্থবছরে। পরবর্তীতে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল, বিমানবন্দর অভিমুখীদের সুবিধা এবং পর্যটকবাহী যান চলাচলের জন্য সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি ওঠে সিলেটে। এ প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। পরের বছর চার লেন সড়কের সাথে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে তৈরি করা হয় সংশোধিত প্রস্তাবনা। ২০১৯ সালের দিকে শুধুমাত্র চার লেনের প্রস্তাবনা জমা পড়ে মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু কাজের কাজ আর কিছুই হচ্ছিল না।