বাংলাদেশের সিলেট শাখার কার্যক্রম বন্ধ করতে যাচ্ছে দ্য ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান (এনবিপি)। ব্যাংকটির বাংলাদেশ প্রধান জানিয়েছেন, প্রায় ৯৮ শতাংশ লোন ফেরত না আসায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে এনবিপির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শাখা রয়েছে ওই দেশে। পাশাপাশি ২১টি দেশেও শাখা রয়েছে ব্যাংকটির। তাদের সম্পদের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশে আগে থেকেই ব্যাংকটির শাখা থাকলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের হাতছাড়া হয় এনবিপির শাখা। এ সময় এনবিপির সব সম্পত্তি ও বিনিয়োগ অধিগ্রহণ করে সোনালী ব্যাংক। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকাকালীন এনবিপিকে নতুন করে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৪ সালের আগস্টে। বর্তমানে বাংলাদেশে চারটি শাখা রয়েছে এনবিপির। চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং রাজধানীর গুলশান ও মতিঝিলে এসব শাখা অবস্থিত। ব্যাংকটিতে শতাধিক জনবল রয়েছে। গ্রাহক প্রায় ৮ হাজার।

পাকিস্তানি ব্যাংকটি ২০১৩-১৪ সালে কিছু খেলাপি গ্রহীতাকে লোন দিয়ে বড় সমস্যায় পড়ে। তারপর দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ব্যাংকটির দুরবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এনবিপি-বিডি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আরব নিউজকে বলেছেন, ‘মারাত্মক পরিস্থিতিতে আমরা সিলেট শাখার কার্যক্রম বন্ধ করতে যাচ্ছি। পাকিস্তানের হেডকোয়ার্টার থেকে অনুমোদন এসেছে। বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য গত ছয় বছরে ১০৪ খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যাংক মোট ১৪৩টি মামলা করেছে।

এনবিপির পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য জানতে পারেনি আরব নিউজ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে সক্রিয় বিভিন্ন শ্রেণীর প্রতারক চক্র, ঠকছেন অসংখ্য মানুষ