সিলেটের একমাত্র সিনেমা হল নন্দিতা দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী বাদশাহ মিয়া লস্কর।

বাদশাহ মিয়া বলেন, লস্কর প্রাইভেট লিমিটেড নামক এক কোম্পানীর মাধ্যমে সিলেটের মানুষের সুস্থ নির্মল বিনোদন প্রদানের জন্য নগরীর তালতলায় নন্দিতা ও অবকাশ সিনেমা হল গড়ে তুলি। সিনেমা হল, আবাসিক হোটেল বিলাস, চন্দ্রিকা মার্কেট ও ছাদী গেস্ট হাউস প্রতিষ্ঠা করে এই কোম্পানী। আমি যার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালে সিলেট নগরীর তালতলায় কোম্পানির নামে প্রায় ৫০ ডিসিমিল জায়গা ক্রয় করেন। ১৯৮১ সালে লস্কর প্রাইভেট লিমিটেড নিয়ম অনুযায়ী সেখানে শুরু করে ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড। তখন লস্কর প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন শুকুর মিয়া লস্কর।

বাদশাহ মিয়ার অভিযোগ, ২০০৮ সালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয় অর্ডিনারী ডাইরেক্টর ধন মিয়ার সাথে। তিনি নন্দিতা সিনেমা হল নিয়ে শুরু করেন নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। ধন মিয়া নন্দিতা হলের ভাড়াটে ঢাকার আজিজ আহমদ পাপ্পুর সাথে এক হয়ে সিনেমা হলটি আত্মসাতের চক্রান্ত শুরু করেন। এছাড়া কোম্পানীর চেয়ারম্যান শুকুর মিয়া লস্কর ২০১২ সালের ১ জুলাই নন্দিতা সিনেমা হলের পাশে নির্মানাধীন ছাদী গেস্ট হাউস এর ২২টি রুম ২০ বছরের জন্যে লিজ দেন বাদশা মিয়া লস্কর ও ধন মিয়াকে।

এরমধ্যে ১৩টি রুম হলো বাদশা মিয়ার ও ৯টি রুম হলো ধন মিয়ার। পরে ২০১৩ সালে আমার ১৩টি রুম ছেলে মোঃ হানিফ লস্কর এর কাছে দুইবারে ৬ বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়। ছেলে লন্ডনে গিয়ে প্রায় ২ বছর গেষ্ট হাউসের ভাড়া সংগ্রহ করে। ২০১৫ সালে মোঃ হানিফ লস্কর মৌখিক ভাবে ধন মিয়া লস্করের কাছে ১৩টি রুম মাসিক ৩৫ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন। কিন্তু ৩ মাস ভাড়া পরিশোধ করলেও প্রায় দুই বছর ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বাদশাহ মিয়া অভিযোগ করেন, তার ছেলে হানিফ লস্কর ভাড়া চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ধন মিয়া ও তার ছেলে জাকারিয়া এবং সহযোগীরা। এ ঘটনায় কতোয়ালী থানায় নিরাপত্তা চেয়ে ছাদী গেষ্ট হাউসের লিজ গ্রহিতা হানিফ লস্কর একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। যার নং ১১২১। তারিখ ১৪/৮/২০১৭।