প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। রাজশাহী, রংপুর সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে, সেগুলোকে এর অধিভুক্ত হতে হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলাগুলোর যতো সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে, সেগুলোও এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকবে। ঠিক তেমনি সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং সেখানকার মেডিকেল কলেজগুলো ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকবে। এতে পড়াশোনার মান বোঝা যাবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কনভেনশন সেন্টার, ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি ভবন এবং ডক্টরস’ ডরমেটরি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের উত্তর পাশে এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ১১ তলা ভবন নির্মিত হবে।

দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, চিকিৎসক সমাজকে গ্রামের মানুষের চিকিৎসায় আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে হবে। ডাক্তারদের গ্রামে থাকতে হবে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, খেটে-খাওয়া মানুষের পরিশ্রমেই অপনাদের বেতন-ভাতা হয়। তাই তাদের প্রতি আপনাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। রোগীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হবে। আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে। এখানে সব ধরনের গবেষণা উপযোগী আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। যেসব মেডিকেল টেস্টের জন্য বিদেশে যেতে হয়, এটি চালু হলে আর বিদেশে যেতে হবে না। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও উন্নত হবে। বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আমি মনে করি। এ স্পেশালাইজড হাসপাতালটি রোগীবান্ধব হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি আশা করি, হাসপাতালটি চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠী অনেক সময় উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। আবার অনেকেই দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে পছন্দ করেন। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। আমি চাই আমাদের দেশের সকল মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

মেডিকেল কলেজগুলোর পড়াশোনার ব্যাপারে নজরদারি রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, প্রাইভেট বহু মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, সেগুলোতে আদৌ পড়াশোনা হচ্ছে কি-না? কী পড়াশোনা হচ্ছে? সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে নাকি রোগী মারার ডাক্তার হচ্ছে, সেটাও আমাদের দেখা দরকার। একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পারবে এ বিষয়ে নজরদারি রাখতে, যাতে সব প্রতিষ্ঠান মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয়। সে ব্যবস্থা আমরা করতে চাই, চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য আছে পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রতিটি প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে। আগামীতে ক্ষমতায় এলে তা করে দেবে আওয়ামী লীগ সরকার।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি. এম. সালেহ উদ্দিন।