বৃষ্টি নামলেই সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। যে যার মত নিরাপদ জায়গায় যান। কিন্তু রোববার বিকালে সিলেট নগরীতে যখন বৃষ্টি নামল কেউই যেন ঘরে বসতে পারলেন না। যে যেখানে ছিলেন সেখান থেকেই বৃষ্টি ভিজেছেন মনের আনন্দে। ছোট ছোট শিশু কিশোর ও খেটে খাওয়া মানুষজনই এই বৃষ্টি গায়ে মেখেছেন বেশি।

সারাদেশে হিট এলার্ট জারি হলেও সিলেট নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। এই তীব্র গরমে ঝড়ো হাওয়ার সাথে মুষলধারের বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে ঝরেছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) বিকাল চারটা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় একঘণ্টার ঝড়ো বৃষ্টিতে প্রশান্তি নেমেছে সিলেট নগরীতে। অবশ্য আগেই সিলেট বিভাগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছিল রোববার বেলা ১টার মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেলা একটায় না হলেও বিকাল চারটায় সত্য হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস।

কেবল বিকালেই নয়, রাতেও নেমেছে বৃষ্টি; অঝোরধারার বৃষ্টি!

বিগত কয়েকদিন ধরেই সারা দেশে প্রখর তাপপ্রবাহ বইছে। তীব্র গরমে জনজীবন এক রকম বিপর্যস্ত। তবে সিলেটে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল আবহাওয়া। সারাদিনই প্রখর রোদ ছিল না সিলেটে। আকাশে ছিল মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি খেলা। রোববার এর ব্যতিক্রম ছিল না। মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি খেলার মাঝেই বিকালে নামে স্বস্তির বৃষ্টি। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট ৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, এই কালবৈশাখী মৌসুমে আবহাওয়া এমনই থাকবে। কখনো বৃষ্টি হবে। কখনো ঝড় হবে আবার কখনো তীব্র তাপপ্রবাহ হবে। আজকে যে বৃষ্টি হবে সেটার পূর্বাভাস ছিল। তবে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সিলেটে দেশের অন্যান্য জায়গার থেকে গরম অনেক কম অনুভূত হচ্ছে।