বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ভারতীয় দুই নাগরিক ১৬ মাস কারাভোগের পর শনিবার (২৭ মে) সকালে মুক্তি পেয়েছে।

মৌলভীবাজার জেল সুপার মো: আনোয়ারুজ্জামান জানান, ভারতীয় নাগরিক জয়ন্তী বিশ্বাস ও তার ছেলে প্রাণতোষ বিশ্বাস ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলার জুড়ী এলাকায় বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি’র হাতে আটক হন। গত বছরের ১০ এপ্রিল আদালত তাদেরকে ১ মাস ১০ দিনের কারাভোগের রায় প্রদান করেন। এরপর থেকে মৌলভীবাজার কারাগারে ছিলেন তারা। দুই দেশের আইনি কার্যক্রম শেষে শনিবার সকালে জয়ন্তী বিশ্বাস ও ছেলে প্রাণতোষ বিশ্বাস কারামুক্ত হয়েছেন। তাদেরকে  মৌলভীবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র মাধ্যমে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, ভারতীয় নাগরিক জয়ন্তী বিশ্বাস (৫৫) ভারতের করিমগঞ্জ জেলার বাজারিছড়া থানার খাগড়াউড়া গ্রামের অজয় বিশ্বাসের স্ত্রী। জয়ন্তী বিশ্বাসের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে। মেয়ে রত্না বিশ্বাসের জন্ম ভারতে হলেও বিবাহসূত্রে তিনি এখন বাংলাদেশের নাগরিক। রত্নার শ্বশুরালয় ভারতের সীমান্তবর্তী জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে। মেয়ের জামাই কিরেন্দ্র বিশ্বাস থাকেন প্রবাসে। স্কুল ও কলেজপড়–য়া ২ ছেলে নিয়ে রত্না বিশ্বাস বসবাস করেন জুড়ীতে। বেশ কয়েক দিন থেকে নানা কঠিন রোগে ভোগছিলেন রত্না। নিজের একমাত্র মেয়ের এমন অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে একনজর দেখতে মন ছটফট করে জয়ন্তী বিশ্বাসের। তাই পাসপোর্ট আর ভিসার অপেক্ষা না করেই ছোটোছেলেকে সাথে নিয়ে ভারত থেকে দালাল মারফতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসেন। ফেরার পথে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের হাতে আটক হন জয়ন্তী বিশ্বাস ও তার ছেলে। বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি পদক্ষেপ  শেষে তারা মুক্তি পেয়ে জন্মভূমি ভারতে ফিরে যান।