সাকিব তামিম নৈপূন্যের দিনে শেষ দিকে আশা জাগানিয়া পারফর্ম করেছেন বোলাররা। সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবাল নিজেদের অর্ধশত টেস্ট ম্যাচে উদযাপন সেরেছেন নিজম্ব টংগে। ‘দুই বন্ধু’ ১৫৫ রানের জুটি গড়ে যতটুকু পেরেছেন ভূমিকা রেখেছেন। ২৬০ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করার দিনে আরও নয়টি জুটি হয়েছে বাংলাদেশের। তার মধ্যে আটটির অবস্থা যাচ্ছেতাই।

এমন দিনের পর বল করতে নেমে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বোলাররা। শেষ বিকেলে মিরাজ আর সাকিব তিনজনকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। ওয়ার্নারকে (৮) মিরাজ, সাকিব লায়ানকে। খাজা রানআউট। অজিদের সংগ্রহ ১৮।

এর আগের গল্পটা সাকিব আর তামিমময়। বাকিদের ভেতর নাসির-মিরাজের জুটি নিয়ে খুব একটা বলার নেই। দুর্ভাগা মিরাজ (১৮) সুযোগ না থাকায় রিভিউ নিতে পারেননি। তিনি যতক্ষণ ছিলেন নাসির ততক্ষণ চেষ্টা করেছেন। বলার মতো না হলেও তাদের ৪২ রানের জুটিকে ‘অজুটি’ বলা যায় না। অন্তত ওই পরিস্থিতিতে।

তামিম-সৌম্য দুজনে ১১ বল খেলে ১০ রান করেন। এই সময়ে প্যাট কামিন্স উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আগুন ঝরান। সৌম্য মানসিকভাবে কোন অবস্থায় আছেন তা তখন কাঁচের মতো চকচক। কামিন্সের শর্টবলের কোনও উত্তরই ছিল না তার কাছে। শারীরিক ভাষায় দৃষ্টিকটু জড়তা। দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। সৌম্যর অবস্থা ড্রেসিংরুমে বসে খেয়াল করছিলেন ইমরুল। তিনি যখন ওই শর্টবলের ভাবনায় আচ্ছন্ন, তখন স্লো-ডেলিভারি দেন ‘চতুর’ কামিন্স। বল শেষ মুহূর্তে খানিকটা নিচুও হয়ে যায়। ইমরুল তালগোল পাকিয়ে ব্যাট দিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন। তামিমের সঙ্গে তার আরেকটি ‘অজুটি’; ০! ঠিক পরের বলে সাব্বির…।

সাব্বিরের মতো হিটার কেন একাদশে? সৌম্য’র যায়গা পাওয়ার মতো এই প্রশ্নও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডালপালা মেলছে। সাব্বিরকে নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু এই ইনিংসের আউট দিয়ে তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া যায় না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওয়াইড ইয়র্কারের মুখোমুখি হন। বল সামলাতে ঠিকমতো ব্যাটও দেন। বল যায় উইকেটের পেছনে। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি সাব্বির।

সৌম্য-ইমরুলের হাবভাব দেখে যখন ব্যাটিংটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে হচ্ছিল, তখন সাকিব অন্যরকম। এসেই সাবলীল ভাবে কাভার ড্রাইভ আর স্কয়ার-কাট শুরু করেন। যেন কোনো ভাবনা-চিন্তাই নেই। অথচ তার কাছে ভাবনার অনেক কিছু ছিল। তামিমের মতো তিনিও ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলছেন। সেদিক থেকে একটু অন্যরকম মুড থাকলেও থাকতে পারতো। তারপর দল পাহাড়সম চাপে। কিন্তু কোথায় কী। তিনি কেন বিশ্বসেরা সেটা স্মরণ করিয়ে দেন আরেকবার। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০তম টেস্টে অর্ধশতক ছোঁয়ার পর ৮৪ রানে বিদায় নেন। তার আগে ভালো খেলতে খেলতে তামিমও চলে যান। তিনি ছিলেন ৭১ রানে।

তামিম ফেরার পর অধিনায়ক মুশফিক সাকিবের সঙ্গে ২৩ রান যোগ করেন। সাকিব ফিরলে মুশফিক (১৮)-নাসিরের জুটি ১০ রান স্থায়ী হয়। দুই বছর বাদে জাতীয় দলে ফেরা নাসির এদিন ২৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। তিনি ফেরার পর শেষ দিকের তিনটি জুটি ৬, ০ আর ১৪ রানের!

সাকিব-তামিম বাদে অন্যরা এদিন না পেরেছেন পেস সামলাতে, না পেরেছেন স্পিন সামলাতে। কামিন্স শুরুর তিন উইকেট নেয়ার পর দুই স্পিনার লায়ন তিনটি আর অ্যাগার তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে শেষ করে দেন। আরেকটি উইকেট ম্যাক্সওয়েলের।

এত অপ্রাপ্তির দিনে শেষ বিকেল কিন্তু অন্য সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি এঁকে গেল। দ্বিতীয় দিনের সকালেও উইকেট সাকিবদের পক্ষে থাকবে। কাজটা ঠিকমতো করতে পারলে পক্ষে আসতে পারে গোটা দিন। যেদিনে অর্ধেকটা লেখা হয়ে যেতে পারে এই টেস্টের ভাগ্য!