সিলেটে যুবদল নেতা-কর্মীদের বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে অবশেষে। সম্মেলন আর নতুন নেতৃত্বের জন্য তাদের যে অপেক্ষা, তা শেষ হচ্ছে আজকের দিন শেষেই। জেলা ও মহানগর যুবদলের সম্মেলন এখন ‘কিছু ঘন্টার ব্যাপার’। আগামীকাল শনিবার জেলা যুবদলের এবং পরদিন রোববার মহানগর যুবদলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব পাবে সিলেট যুবদল। প্রায় দুই দশক পর এই সম্মেলন ঘিরে যুবদলের রাজনীতি এখন তাই সরগরম।

যুবদল সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা যুবদলের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০০ সালে। তখন ভোটের মাধ্যমে কামাল আহমদ সভাপতি ও তালাত আজিজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ফখরুল ইসলাম বাদল ও সাদিকুর রহমান সাদিক সমসংখ্যক ভোট পান। পরে বাদলকে যুগ্ম-সম্পাদক এবং সাদিককে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ২০০১ সালে ‘ব্যক্তিগত কারণে’ পদত্যাগ করেন কামাল; সভাপতির দায়িত্ব পান জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুল মান্নান। ওই বছরেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তালাত আজিজ; দায়িত্বে আসেন প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন।

অন্যদিকে, পৌরসভা থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন গঠনের পর মহানগর যুবদলের কোনো সম্মেলন বা কমিটি হয়নি। পৌরসভা থাকতে শহর যুবদলের যে কমিটি হয়েছিল, সেটা সিটি করপোরেশন হওয়ার পর বিলুপ্ত করা হয়। শহর যুবদলের সেই বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি এমদাদ হোসেন টিপু ওয়ান-ইলেভেনের সময় যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানেই থিতু হয়েছেন তিনি। আর সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সুহেল মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর জেলা-মহানগর যুবদলে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। জেলায় ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এবং মহানগরে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দেওয়া হয়।

আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর এই আহ্বায়ক কমিটি সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এবারের সম্মেলনে জেলা-মহানগর উভয় শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। উভয় শাখা মিলিয়ে প্রায় নয়শত কাউন্সিলর রয়েছেন। শুরুতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে এ পদে ভোটগ্রহণ বাদ দেওয়া হয়।

সিলেট জেলা যুবদলে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, জেলা যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাহেদ আহমদ চমন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মকসুদ আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান নেছার ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লিটন আহমদ। নেছার ও লিটন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

মহানগর যুবদলের সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শাহনেওয়াজ বখত তারেক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বেলাল প্রার্থী হয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে যুবদল নেতা এমদাদুল হক স্বপন, মীর্জা সম্রাট ও উমেদুর রহমান উমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু সিলেটভিউকে জানিয়েছেন, জেলা যুবদলের সম্মেলন শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে নগরীর রেজিস্টারি মাঠে। যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। দুপুরের পর দ্বিতীয় অধিবেশনে হবে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ।

জেলা যুবদলের সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিশেষ বক্তা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান।

সিলেট মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব সিলেটভিউকে জানিয়েছেন, মহানগর যুবদলের সম্মেলন রোববার সকাল ১০টা থেকে নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে শুরু হবে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ ছাড়া বিএনপি ও যুবদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও থাকবেন। দুটি পৃথক অধিবেশনে শেষ হবে সম্মেলন।

এদিকে, যুবদলের এই সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীরা এখন উৎফুল্ল। শীর্ষ দুই পদে কারা আসছেন, এ নিয়ে তাদের ব্যাপক আগ্রহ। সরাসরি ভোটদানের সুযোগ থাকায় কাউন্সিলররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা এখন শেষমুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত। কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা।

জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়কগণ সিলেটভিউকে বলেছেন, সফল সম্মেলন করার সব আয়োজন তারা সম্পন্ন করেছেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতারা শীর্ষ দুই পদে নির্বাচিত হবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

ভোটের বুথে ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ>>
জেলা ও মহানগর যুবদলের কাউন্সিলে কাউন্সিলররা ভোট প্রদান করে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলে ভোট প্রদানের বুথে মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান দুলাল।

যুবদল নেতারা জানান, কাউন্সিলরদের উপর তাদের নেতাদের নানা চাপ থাকে। কাকে ভোট দেওয়া হয়েছে, এর ছবি তুলেও দেখাতে হয় নেতাদের। এতে কাউন্সিলররা নেতার চাওয়ার বাইরের কাউকে ভোট দিতে পারেন না। এ বিষয়টি যাতে এবার না ঘটে, সেজন্য ভোটের বুথে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে কাউন্সিলররা তাদের ইচ্ছেমতো যে কাউকে ভোট দিতে পারবেন।

সংবাদ-সিলেটভিউ২৪

‌মসজিদের শহর বিয়ানীবাজার।। পর্ব#৫১।। এ পর্বে রয়েছে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুর পুর জামে মসজিদ