জাঁকিয়ে শীত পড়তে শুরু না করলেও ঘন কুয়াশা কিন্তু চাদর ফেলতে শুরু করেছে ঠিকই। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে কুয়াশার কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার গ্রামীন রাস্তাগুলোতে গাড়ি চলেছে ফগলাইট (ঘন কুয়াশায় পথ চলতে সহায়ক বাতি) জ্বালিয়ে। অথচ সপ্তাহ দুয়েক আগেও ভোর না হতেই সূর্যের ঝলমলে কিরণে আলোকিত হতো রাস্তা। কিন্তু গত দুই দিন ধরে সকাল গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত পূর্ব সিলেটে দেখা মিলছে না সূর্যের।

গত দুইদিন ধরে কোথাও কোথাও মাঝরাত থেকে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত ঢেকে ছিল ঘন কুয়াশায়। পৌরশহরসহ গ্রামীণ জনপদে চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছিল না সকাল, দুপুর এমনকি বিকালেও। হালকা শীত ও কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটে মানুষজনের আনোগোনাও অপেক্ষাকৃত কম। বুধবার সন্ধ্যায় পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে ছোটবড় যানবাহন চালকরা ফগলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের ভাটাবাজারে দেখা হয় প্রাইভেট কার চালক ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষক বাবলুর সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের ড্রাইভিং শেখাতে বের হন তিনি। কিন্তু গত দু’দিন ধরে কুয়াশার কারণে রাস্তায় ফগলাইট জ্বালিয়ে রাখতে হয়। ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ির কয়েক ফুট দূরেও ঠিকমতো কিছু দেখা যায় না। দুর্ঘটনা এড়াতেই ফগলাইটের সহায়তা নিতে হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে শহরতলীর অলিগলিতে ঘন কুয়াশার দাপট। একটু দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছে না। রাস্তাঘাটে রিকশাসহ যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম। অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বা অন্য জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। গতকাল বুধবারের ন্যায় আজও সাত সকালে ঘরের বাইরে এসে অপ্রস্তুত পৌরবাসী মুখোমুখি হয়েছেন তীব্র কুয়াশার।

দুপুর সোয়া ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দেখা যায়নি সূর্যের মুখ। কুয়াশার কাছে যেন হার মেনেছে সূর্যের আলো। থেমে থেমে পৌরবাসীকে ছুঁয়ে যাচ্ছে কুয়াশায় ঘেরা ঘন বাতাস। অনেকেই কুয়াশার কারণে বাড়তি শ্বাসকষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। আর তাই করোনা সংক্রমণ এবং ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারের ইফতেখারের চমক- ‘এক নায়িকার বিপরীতে ৯ নায়ক’