নালবহর থেকে ফিল্মী স্টাইলে পাঁচজন নিরীহ শ্রমজীবী মানুষকে গ্রেফতার করে জুয়াড়ি সাজানোর নাটক বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের! সোমবার সন্ধা ৭ টার সময় নালবহর বাজারে সিরাজ নামের এক পুলিশ অফিসার ও ৩ জন কনস্টেবল একটি দল অভিযানের নামে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড চালিয়ে ৫ জন নিরীহ মানুষকে চড়, ঘুষি মেরে জোর করে থানায় নিয়ে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় গ্রামের মুরব্বী-যুবক পুলিশের কাছে এমন অসদাচরনের কারন জানতে চাইলে পুলিশ অফিসার সিরাজ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানদার সিরাজ উদ্দিনকে তার ছোট দু’বাচ্চা ও গ্রামবাসীর সামনে তাকে এলোপাতাড়ি চড়, ঘুষি মেরে টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কেন এই অভিযান? অভিযানের নামে পুলিশের কেন হঠাৎ এমন সন্ত্রসী কর্মকান্ড? পুলিশ অফিসার সিরাজ কিছু না বলেই জোর করে নিরীহ ৫ জন মানুষকে থানায় নিয়ে যায়। এলাকার যুবক, মুরব্বী মিলে থানায় গিয়ে কারণ জানতে চাইলে বলা হয়- এরা নাকি জুয়াড়ি। এদেরকে জুয়ার আড্ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদেরকে ছাড়া যাবেনা কোর্টে সোপর্দ করা হবে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সন্ধ্যা ৭টার সময় গ্রাম্য বাজারে কিভাবে জুয়া খেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা একমাত্র পুলিশ ছাড়া আর কেউ জানে না?

জুয়াড়ি নামে যাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ তারা সবাই নিরীহ শ্রমজীবী মানুষ। আটকদের একজন রিকশাচালক, একজন শ্রমিক, একজন চটপটি ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা, একজন চা দোকানি।

রিকশাচালক, শ্রমিক ও চটপটি বিক্রেতারা সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষ করে গ্রামের চায়ের দোকানে বসেছে একটু বিনোদনের আশায়। এখানে বিনোদন বলতে চা-বিস্কুট খাওয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন দেখে বিনোদিত হওয়াই লক্ষণীয়।
আর চায়ের দোকানের মালিক সিরাজ উদ্দিন জীবিকানির্বাহের তাগিদে চায়ের দোকানে টেলিভিশন দেখা ও ক্যারাম খেলার ব্যবস্থা করেছেন, দুই পয়সা উপার্জন করার জন্য।

উপরন্তু, গ্রাম্য বাজারের এ দোকানে জুয়ার আসর হলে নিশ্চয় গ্রামবাসী এ বিষয়ে অবগত থাকতো। কিন্তু গ্রামবাসীর কোন অভিযোগ না থাকা সত্বেও পুলিশ এই নিরীহ লোকদের গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের এহেন অসদাচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কি উচ্চ পদে অধীন হওয়ার জন্য প্রমোশনের লোভ নাকি নালবহরের মতো শান্তিপ্রিয় গ্রামকে কলংকিত করার পিছনে কোন অসাধু মহল পুলিশকে ব্যবহার করছে? এ প্রশ্ন এখন পুরো গ্রামবাসীর মনে।

অন্যদিকে, কি অপরাধে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে এ প্রশ্ন করার কারণে ধৃত সিরাজ উদ্দিনকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা তার দুই ছেলের সামনে চড়-ঘুষি মেরে টেনে-হিচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এটা কি মানবাধিকার লঙ্গন নয়?

গ্রামের এই নিরীহ মানুষগুলো শীতের সন্ধ্যা চায়ের দোকানে বসে একটু বিনোদনের আশায়। পুলিশ এখন এই চায়ের দোকানগুলোকে বলছে জুয়ার আড্ডায়। নিরীহ শ্রমজীবী মানুষকে গ্রেফতার করে বলছে জুয়াড়ি আটক করেছে।
গ্রামের মানুষগুলো সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে টিভি দেখে বিনোদিত হওয়ায় যদি জুয়াড়ি হয়ে যায়, তাহলে এদেশের প্রতিটি চায়ের দোকান একেকটি জুয়ার আড্ডা! চায়ের দোকানে বসে চা-পানরত সকল সাধারণ জনতা একেকজন বড় মাপের জুয়াড়ি!

সত্যিই সবই স্যালুকাস! যেনো চলিতেছে সার্কাস..!!

লেখক- সমাজ ও রাজনীতিক কর্মী।