‘মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার, পুলিশ হবে জনতার’-এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর গ্রামবাসীর সাথে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং এর ব্যানারে মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী এক মতবিনিময় সভা করেছে থানা পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মোল্লাপুর বাজারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউপি সদস্য আকবর হোসেনের সচালনায় ও মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায়। তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকান্ডকে সকলে মিলে প্রতিহত করতে হবে। যার যার এলাকার ভালো-মন্দ সবকিছু এলাকার সকলে মিলেই ভাগ করে নিতে হবে। এলাকার মূল ক্ষমতাই হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর হবে।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেনো, তাকে একবিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না, আইনের কাছে সকলেই সমান। ইভটিজার, মাদকাসক্ত, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের কাছে সমর্পণ করতে হবে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময় খোঁজখবর রাখতে হবে। যে সব ছেলে ইভটিজিং করে, মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের তালিকা প্রশাসনের কাছে দেবেন। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। যে সব ছেলে ইভটিজিং করে তাদের অভিভাবকদের তলব করা হবে সন্তানদের সচেতন করার জন্যে। একটি ঘটনার জন্যে যেনো আরেকটি ঘটনার সৃষ্টি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার বলেছেন পুলিশ বাহিনীকে অবশ্যই কমিউনিটি পুলিশিংকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজ থেকে অন্যায় অনিয়মের ব্যাধিগুলো রোধ করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা ভূমিকা রাখবেন। তাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ অতি দ্রুত দূর করা সম্ভব হবে। এলাকাকে মাদক ও ইভটিজিংমুক্ত করতে সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কারা এলাকায় মাদক বিক্রি করে, ইভটিজিং করে তাদেরকে আমরা সকলেই চিনি, তাদেরকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে।

ওসি হিল্লোল রায় আরো বলেন, মেয়েদের বাল্য বিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেয়ার কারণে তার জীবনে চরম দুর্গতি নেমে আসে। একটা মেয়ে প্রতিটি বাবা-মায়ের সংসারে ৫ বছর থাকলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু গোপনে বাল্য বিয়ে দেয়ার কারণে তার কাবিন রেজিস্ট্রি করা বন্ধ থাকে। এ জন্যে তার জীবন চরম অন্ধকারে ঢেকে যেতে পারে। মেয়েদেরকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তানরা কার সাথে চলাফেরা করে কোথায় যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মাদকাসক্ত ছেলেমেয়ে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। মাদকের ভয়াবহ অবস্থা থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে। মাদক ও জঙ্গিদের সম্পর্কে আমাদের অনেক সচেতন হতে হবে। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সকলে মিলে কাজ করতে হবে। সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে হলে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে এবং সকল গর্হিত কাজকে পরিহার করতে হবে। আমরা সকলে মিলেই একটি সুন্দর বিয়ানীবাজার গড়বো।

সভায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান, ইউপি সদস্য মুইদুল ইসলাম, সমাজসেবী সেলিম আহমদ, কানাডা প্রবাসী দুলাল আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা কয়েস আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাহেল আহমদ, জামিল আহমদ, ইউনিয়ন বিট পুলিশিং অফিসার এসআই খবির উদ্দিনসহ বিট পুলিশিং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি ও শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারবাসীকে কি বলেছিলেন ব্যারিস্টার সুমন!