সম্প্রতি সিলেট কোতয়ালি থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলা গ্রেফতার ও হাজতবাস শেষে জামিনে মুক্তি পান বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘুঙ্গাদিয়ার মালিগ্রামের ইটালি প্রবাসী মনিরুজ্জামান স্বপন (সুলেমান)। আজ শুক্রবার বিকাল ৪টায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কলেজ রোডের রয়েল স্পাইসি রেস্তুরায় সংবাদ সম্মেলন করেন এ ইটালি প্রবাসী। এ সময় ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সুলেমান জানান, ইটালিতে তার নিজস্ব বাসায় ভাড়া থাকতেন ফরিদ ও ফারুক নামের দুইজন। তারা পরস্পরের আত্মীয়। বাসায় ভাড়া থাকার সুযোগে ফরিদ অন্য ভাড়াটিয়াদের মোবাইল ফোন ও নগদ ৮শত ইউরো চুরি করে পালিয়ে যায়। কয়েক মাস পরে তাকে ইটালির একটি এলাকা থেকে ধরে বাসা নিয়ে আসা হয়। এ সময় আমার বাসার ভাড়াটিয়াদের সাথে আমিও ছিলাম। পরে বাসায় সালিশ বৈঠকের পর ফরিদের আত্মীয় ফারুরে জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার কয়েকমাস পর ফারুক পিতা অসুস্থ থাকার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২ লাখ ঋণ নেয়। চুরি যাওয়া মালামাল ঋণের টাকা চাওয়াতে তারা আমার সাথে টালবাহানা করে। দেশের আসার  সময় ফারুক আমাকে টাকা পাঠানোর জন্য ওয়াদা করলেও  এ পর্যন্ত টাকা দেয়নি। এর মধ্যে ফরিদের এক ভাই ফয়েজকে ইটালি পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৩ ভাগ ৮ লাখ টাকা নেয়ার মিথ্যা গল্প তৈরী করে সিলেট কোতয়ালি থানায় গত ৯মে মামলা দায়ের করে। গত ১১ মে ওই মামলায় পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। মামলায় ২০১৫ সালের ৪ জনু ব্রাক ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা আমি উত্তোলন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। অথচ এ সময় আমি দেশে ছিলাম না। দেশে না থেকে কিভাবে টাকা উত্তোলন করলাম- পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত না করে আমাকে গ্রেফতার করে। আদালতে এসব তথ্য উপস্থাপন করার পর আদালত আমাকে জামিনে মুক্তি দেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীরা দেশে আসি কয়েক দিনের জন্য। আমাদের শ্রমে অর্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখে। অথচ দেশে এসে আমরা মিথ্যা মামলার শিকার হই। সুলেমান বলেন, এ ঘটনা পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ মহলের দুষ্টি আকর্ষণ করছি। এরকম মিথ্যা ও ভিত্তি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং এর সাথে যে বা যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করছি। সুলেমান বলেন, কোতয়ালি থানায় দায়ের করার মামলার বাদির সাথে আমার পরিচয় নেই। আমি তাকে কোনদিন দেখিনী। অথচ তার মামলায় আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। এ ঘটনাটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য খুব কষ্টের একটি ঘটনা।

সংবাদ সম্মেলনে বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সাল, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মিলাদ জয়নুল, রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ছাদেক আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক হাসানুল হক উজ্জল, রাজু ওয়াহিদ ও শাহীন আলম হৃদয়, সাবাদিক সুয়াইবুর রহমান স্বপন, সুফিয়ান আহমদ, সিপার আহমদ পলাশ, রুয়েল আহমদ ও আবু তাহের রাজু উপস্থিত ছিলেন।