বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকে ভোটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করেন। তবে কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষ, জাল ভোট ও কারচুপি অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। বিকালে ভোট কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ভোটাররা আতংকিত হয়ে পড়েন। এছাড়া পৌরসভার আরও দু’একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় কয়েকজন আটক করা হয়। এদিকে ৩ ও ৪নং ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। একই সাথে এ দুই প্রার্থী পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।

গতকাল সন্ধ্যা উপজেলা সম্মেলন কেন্দ্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ঘোষিত ৯টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন। ৯ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি’র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টুর ধানের শীষ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস শুকুরের নৌকার চেয়ে ১২০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটার দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ভোট প্রদান করেন। দুপুর পর্যন্ত পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলে। দুপুরের দুএকটি কেন্দ্রে বিভিন্ন মেয়র ওে কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করেন।  এসময় ৪নং ওয়ার্ডে খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুন্নি নামের এক তরুণীকে আটক করে আইনশৃঙ্খরা বাহিনী। ৬নং ওয়ার্ডের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল ভোট প্রদানকালে মনি ও শাম্মি নামের দুই তরুণীকে আটক করেন নির্বাচনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। একই ওয়ার্ডের বিয়ানীবাজার সরকারি করেজের সুমন নামের এক যুবকে জাল ভোট দেয়ার সময় আটক করা হয়। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডেও কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১১টার সময় ভোট দিতে এসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাহিমা আক্তার  (ভোট নং ৪৩) ভোট দিতে দেখেন তার ভোট দেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুম মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। একই কেন্দ্রে দুপুর আড়াই টায় উট পাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মছমন মিয়ার সাথে পানির বোতল কাউন্সিলর প্রার্থী ইসলাম উদ্দিনের ভাগনা কামরানের সাথে বাগবিত-া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি কেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কেন্দ্রের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ ভোটার নিরাপদ স্থানে ছুটতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, স্টাইকিং ফোর্স ও অতিরিক্ত পুলিশ কেন্দ্রে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। এসময় একটি বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও ব্যাটল পেপার না থাকায় ভোটার ভোট দিতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বিকাল পৌণে চারটায় কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন এ কেন্দ্রের ফলাফল তাৎক্ষনিক স্থগিত ঘোষণা করে। পরে সন্ধ্যায় ৭টার সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন সমকালকে বলেন, কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট ও কারচুপি অবিযোগ থাকায় প্রিাসাইডং কর্মকর্তা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, একেন্দ্রে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রঞ্জিৎ কুমারকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত উপজেলা সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন কেন্দ্রে থেকে আসা ফলাফল ঘোষণা করছেন।  ১০ কেন্দ্রের মধ্যে নয় কেন্দ্রে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ধানের শীষের  আবু নাসের পিন্টু ৩৬২১ ভোট, আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী নৌকতা প্রতীকের আব্দুস শুকুর ৩৫০১, পৌরপ্রশাসক স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীকের তফজ্জুল হোসেন ৩৩০৮ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আব্দুস শুকুরে নিজ কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। একেন্দ্রে ৩৩৮৮ জন ভোটার রয়েছেন।  ৯ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ ১২০ ভোটের নৌকা প্রতীকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন চলাকালে বিকাল সাড়ে তিনটায় বিএনপি প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান, অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখান করেন। ভোট গগণা চলাকালে নির্বাচন প্রত্যাখান করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন। তিনি ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রসসহ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের জাল ভোট প্রদান, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখান করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, একটি কেন্দ্র ছাড়া অন্য ৯টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে। এ ৯টি কেন্দ্রের ফলাফল আমরা ঘোষণা করেছি। মেয়র পদে বিএনপি’র আবু নাসের পিন্টু তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের আব্দুস শুকুর ১২০ ভোট এগিয়ে রয়েছেন।  তিনি বলেন, ফলাফল বাতিল হওয়া কেন্দ্রের পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে পুনরায় ভোট গ্রহণের বিষয়টি জানানো হবে।