সম্প্রতি বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন স্থানে পুজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-ধর্ষণ, সম্পদ লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে প্যারিসে মানববন্ধন ও এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সম্মুখে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্যারিস্থ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ সনাতন ধর্ম উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে ফ্রান্স প্রবাসী সংখ্যালঘু স্বার্থবান্ধব বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃৃন্দসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্দীপ্ত মানুষজন অংশ নেন।

ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক আক্রমনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়ে সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা-নিপীড়ন ও লুণ্ঠনকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ন্ব্যাক্কারজনক এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

প্রকাশ কুমার বিশ্বাস ও শ্যামল দাসের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদের উপদেষ্টা দীপঙ্কর রায় করুনা, পূজা পরিষদের সভাপতি পিন্ট লাল বিশ্বাস, সনাতন ধর্ম উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত দাস ও মানবাধিকার কর্মী বিভা রানী বিশ্বাস প্রমুখ।

আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জ্যোতিষ দেবনাথ, বাসুদেব বনিক, অজয় দাস, রজত কান্তি দেব, সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ, রজত রায়, কার্ত্তিক দাস, সুমন বিশ্বাস, রাহুল ঘোষ রতন, সঞ্জয় দেব মন্টু, দিপন বিশ্বাস, মিটন কান্তি কর, সজল দাস, কৃষ্ণ দাস, সৌমেন্ত্র ভট্টাচার্য, মিনা মারি গমেজ, সাবিত্রী বিশ্বাস, ময়না দেব, নয়ন গোপ, জনি দাস, মিটুন গুপ্ত, শুভেন্দু সেন, সুমন দত্ত, দয়াময় রায়, সুজিত দেব, উষা রানী দাস, সুলেখা রানী দাস, সৃষ্টি সরকার, ঝন্টু দাস, অর্চনা রানী রায়, মিটুন দাস, পুরঞ্জয় দাস, গীতন চৌধুরী, বিমল দাস, লিটন বড়ুয়া ও সুজয় বড়ুয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ কর’, ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’, ‘এক জাতি এক প্রাণ ৭২-এর সংবিধান’ ‘যদি তুমি মানুষ হও, ধর্মান্ধতা রুখে দাও’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ চলবে’, ‘রুখে দাড়াও বাংলাদেশ- সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ নিপাত যাক’, ‘ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’, ‘রক্তাক্ত শারদ’, ‘We demand justice and Safety’ এসব লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমাবেশ চত্বর।

সমাবেশ শেষে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের কাছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিয়ানীবাজারে ইউপি নির্বাচন—আ.লীগের বিদ্রোহীদের নিয়ে যা ভাবছেন দায়িত্বশীলরা