নানা আলোচনা এবং সংযোজন বিয়োজনের মাধ্যমে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আত্ম প্রকাশ ঘটবে। জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সংযোজিত কমিটি অনুমোদন দুই একদিনের মধ্যে অনুমোদন করতে পারেন।

২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আওয়াল।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কয়েক দফা বৈঠকে একটি রূপ রেখা জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের কাছে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের পরামর্শে প্রাথমিক তালিকায় কিছুটা রদবদল করা হয়। চলতি বছরের মার্চে প্রথম দিকে একটি খসড়া তালিকা জেলায় পাঠানোর পর সবুজ সংকেত পেয়ে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে প্রেরণ করেন।

এরপর আলোচনার মাধ্যমে পাঠানো তালিকা থেকে দুইটি নাম সংযোজন বিয়োজন করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট জসিম উদ্দিন ও সাইদুল ইসলাম।

গত ২ এপ্রিল জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর আরো চারটি নাম সংযোজন বিয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ বৈঠক শেষ হয় রাত ১২টার দিকে। এতে নতুন করে কমিটিতে সংযোজন হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ময়মুল ইসলাম, প্রভাষক আরবাব হোসেন খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পাভেল মাহমুদ ও ইকবাল হোসেন তারেক।

এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন হয়ে গেছে এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদবঞ্চিতরা উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উষ্মা প্রকাশ করলে অনেকেই কমেন্ট গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এসব উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশকারির সংখ্যা খুব বেশি নয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়ালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে কমিটি গঠন নিয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা আলোচনা করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটি গঠন করতে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের সাথে পরামর্শ করেছি। আশা করি নতুন কমিটি সব মহলে প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিশাল দল। সরকারি এ দলের উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ার মতো যোগ্য নেতাকর্মীর সংখ্যা কয়েকশত হবে। কিন্তু দলের গঠনতন্ত্র মেনে কমিটি করতে গিয়ে আমরা ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক কমিটিতে থাকাদেরও নতুন কমিটিতে রাখায় নতুন করে স্থান পেয়েছেন মাত্র ৩৭ জন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কমিটিতে সহসভাপতির ৯ পদের সবািই সাবেক কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল ছিলেন। সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আহাদ কলা, সহসভাপতি আহমদ হোসেন বাবুল, হারুন হেলাল চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, সামসুদ্দিন খান, মোস্তাক আহমদ, ছালেহ আহমদ বাবুল, অধ্যাপক আব্দুল খালিক ও আশরাফুল ইসলাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয় হওয়ায় হারুনুর রশিদ দিপু প্রথম যুগ্ম সম্পাদক। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুগ্ম সম্পাদকের পদ পেয়েছেন। তাঁরা দুইজনই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথমবারের মতো স্থান লাভ করলেন।

তিন সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন নতুন করে উপজেলা আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ হুমায়ুন আহমদ, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ সম্পাদক মাসুম হোসেন খান ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেন। এছাড়া আলোচনায় থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ, সাবেক স্বে্চ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

সুচিকিৎসার প্রত্যয় নিয়ে বিয়ানীবাজারে যাত্রা শুরু করেছে নিউ লাইফ জেনারেল হাসপাতাল