অবশেষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত (গুচ্ছ) পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান এ তিনটি বিষয়বস্তুর ওপর।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্বদ্যিালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্বদ্যিালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) এক মতবিনিময় সভায় চূড়ান্তভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠনের অপেক্ষা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি এ গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। কমিটি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি স্কোর দেবেন। এ গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ শর্ত ও চাহিদা উল্লেখ করে শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। স্কোর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। এজন্য আলাদা করে কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না।’

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘করোনার কারণে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছু হঠার সুযোগ নেই।’

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা চিন্তা করে সরাসরি ও সহজ উপায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে তিনি উপাচার্যদেরকে আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, কৃষি বিষয়ক ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর স্নাতক শ্রেণিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘গুচ্ছ’ পরীক্ষার পদ্ধতি কেমন হবে?

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটা হচ্ছে যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সেগুলো একসাথে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। কৃষি, সাধারণ এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তারাও এরকম একসাথে নেবে। এইভাবে চারটি গুচ্ছ পরীক্ষা হবে। এই চারটা ভাগের মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সামাজিক বিজ্ঞান এগুলোর জন্য তিনটি পরীক্ষা হবে।’

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা কেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মৌসুমে ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ লাখো শিক্ষার্থীর হয়রানির প্রসঙ্গ প্রতি বছরের কমন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যাটি এ রকম- একজন শিক্ষার্থী যে কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একটি বিষয়ে ভর্তি হয়। অথচ তাকে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে দেশময় ঘুরে বেড়াতে হয় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে অর্থ ও সময় তো নষ্ট হয়ই, অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে ছোটাছুটির কষ্ট করতে হয় তার চেয়েও বেশি। সবচেয়ে জনপ্রিয় যে সমাধানটি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় এসেছে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জাতের ধান