উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়েই গত ১৭ই সেপ্টেম্বর রবিবার লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী হলে উদযাপিত হলো সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪৬ বছর পূর্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন ।

পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জহুরুল হোসেন চৌধুরী সোনা মিয়া সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক নুরে আলম রব্বানী ও অভিনেতা এম এ সালাম এর যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স এর সভাপতি , বৃটিশ কারী এওয়ার্ডের ফাউন্ডার ইনাম আলী এম,বি,ই এফ, আই, এইচ । বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর শুরু হয় আলোচনা সভা। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রাক্তন ছাত্র ময়নুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে আনোয়ার হোসেন রনি, আলী হোসেন, আব্দুল আলিম, আমিনুল ইসলাম, দিলওয়ার হোসেন, সাইফুল চৌধুরী সাইফ, বদরুল হক ও কবি রহমত আলী পাতনী সহ অন্যান্যরা।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন সিলেট পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান রায় বাহাদুর দুলাল চন্দ্র দেব যে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জি, সি দেব)যে বিদ্যালয়ের ছাত্র সেই বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য কে ধরে রাখা এই প্রজন্মের সকল শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব । কবি রহমত আলী পাতনী তার বক্তব্যে লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন । বিদ্যালয়ের ১৯৪৯ সনের প্রাক্তন ছাত্র মোঃ আবুল লেইছ অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ওয়েব সাইটের উদ্বোধন করেন এবং এর পরেই এই বিদ্যালয়ের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র ও একটি নাটিকা প্রজেক্টারের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, সকলেই নিরব দৃষ্টিতে এসব উপভোগ করেন। দীর্ঘ দিন পর স্কুল জীবনের সহপাঠীদের সাথে দেখা হওয়ায় অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কিছুক্ষণের মতো মনে হয়েছিলো প্রবাসের মাটিতে যেন এক খন্ড বাংলাদেশ । বিদ্যালয়ের নবীন ও প্রবীণদের মিলন মেলায় অনুষ্ঠান টি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। একে অপরের সাথে কোশল বিনিময়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন । অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সহ অন্যান্য সুধীজনরা ও উপস্থিত ছিলেন । সব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘঠে।