বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য করার জন্য কানাইঘাটে কৌমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকের মাধ্যমে উত্তোলনকৃত অনুদানের টাকা নিয়ে কানাইঘাটে চতুল বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার দুপুরের দিকে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে থানা প্রশাসন ও আ’লীগের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অনুদানের টাকা বিতরণে ইউএনও বরাবর অনিয়মে অভিযোগ আসায় এ উত্তেজনা দেখা দেয় স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, কানাইঘাট দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস শায়খে লক্ষীপুরীর নেতৃত্বে কানাইঘাটে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও সূধীজন রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের জন্য সম্প্রতি জনসাধারণের কাছ থেকে নগদ চাদা কালেকশন করেন। সেই টাকা টেকনাফের উখিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মাঝে কয়েকদিন পূর্বে ৫নং বড়চতুল ইউপির চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল হোসেন চতুলীর নেতৃত্বে বিতরণ করা হয়। রোহিঙ্গাদের সাহায্যের কয়েক লক্ষ টাকা কোন ব্যাংকের শাখা ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা না দিয়ে বিতরণের টাকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ এনে বড়চতুল ইউনিয়নে এম. কামাল আহমেদ নামের এক যুবক গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

দায়েরকৃত এ অভিযোগে বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল হোসেন চতুলী, স্থানীয় মাদ্রাসা ছাত্র নুরুল ইসলাম নোমানি, দারুল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃ হারুনুর রশিদ চতুলীকে রোহিঙ্গাদের সাহায্যের উত্তোলনকৃত টাকার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক এ তিন জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান দরখাস্তকারী এম. কামাল আহমদ। অভিযোগ দায়েরের পর গোটা উপজেলার কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মাদ্রাসার ছাত্ররা এম. কামাল আহমদ এবং এ ঘটনার পিছনের ইন্ধনদাতা, গডফাদারদের চিহ্নিত করে আলিম উলামাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য শনিবার বেলা ১টায় চতুল বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। একই সময় দরখাস্তকারী এম. কামাল আহমদসহ অভিযোগকারির পক্ষের লোকজন পাল্টা জনসভার ডাক দিলে চতুল বাজারসহ আশপাশ এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান ও কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ কানাইঘাট দারুল উলূম মাদ্রাসায় গিয়ে দুপুরে ছাত্র-শিক্ষকদের বৈঠক করেন। বৈঠকে আলিম উলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দরখাস্তকারী এম. কামাল আহমদ গংদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা এবং আলিম উলামাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবী জানান উলামায়ে কেরাম।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে চতুল বাজারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে পুরো বাজারে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাথে সাথে সেখানে ছুটে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান, জেলা আ’লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ, থানার ওসি আব্দুল আহাদ, দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহদ্দিস শামসুদ্দিন দুর্লভপুরী, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল হোসেন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আলিম উলামাদের নিয়ে বৈঠকে বসে উভয় পক্ষকে সভা সমাবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালে আলোচনা সাপেক্ষে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কোন পক্ষকে সভা সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। বিষয়টি সামাজিক সালিশে বসে নিষ্পত্তির সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অভিযোগকারী কামাল আহমদ আলিম উলামাদের উপস্থিতিতে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তাদের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে দরখাস্তকারী পক্ষের লোকজন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নামে উত্তোলনকৃত টাকার সঠিক হিসাব দিতে হবে।