বিয়ানীবাজার ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার একটি রেজিস্টার চিঠি  নিয়ে চিঠির গ্রহিতা পিতা-পুত্রের সাথে অসদাচারণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেজিস্টার করা এ চিঠি নিয়ে তাদের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়ানোর পাশাপাশি কয়েকবার ধমক দেন। এসময় তিনি সিগারেটও পান করেন। পোস্ট মাস্টারের সিগারেট টানা ও ধমক দেয়ার বিষয়গুলো অন্যদের কাছে খুব দৃষ্টিকুটু মনে হয়েছে।

যুুক্তরাজ্য থেকে রেজিস্টার করা চিঠিটির খামের দুই পাশে ছিঁড়ার চিহ্ন বিদ্যমান। খামের পেছন দিকের উপরের দুই পাশে আড়াআড়িাবে ছিড়ার চিহ্ন কসটেপ দিয়ে লাগানো রয়েছে। এটি খুব সহজে বুঝা যায় চিঠি কোথাও না কোথাও কোন অসাধু খোলে খামের ভেতর দেখেছে। চিঠির খাম বিকৃত থাকায় তা গ্রহণ করেননি সিদ্দিক আলী।

জানা যায়, উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর গ্রামের সিদ্দিক আলীর কাছে তার ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল কাদির একটি রেজিস্টার চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিটি গত জুন মাসে যুক্তরাজ্যের মেনুর পার্ক এলাকার পোস্ট অফিস থেকে রেজিস্টারি করে পাঠান। চিঠির মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি ওপেন চেক ছিল। প্রায় এক মাস অপেক্ষার পর চিঠি না পেয়ে সিদ্দিক আহমদ বিয়ানীবাজার ইউসিবিএল ব্যাংকে গিয়ে চেকের বিষয়টি অবহিত করেন ব্যাংক একাউন্ড সাময়িক ক্লোজ করেন। তিনি হজ্বে যাওয়ার প্রায় দেড় মাস পর গত ১২ সেপ্টেম্বর শালেশ্বর ডাকঘরে রেজিস্টারি চিঠি পৌঁছায়। ডাকঘর থেকে তাঁর বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে সিদ্দিক আলীর পুত্র বাতিন বলেন, হজ্ব থেকে আসার পর চিঠি নেয়া হবে। গত ০৩ অক্টোবর সিদ্দিক আলী ডাকঘরে গিয়ে রেজিস্টারি চিঠি দেখে তার সন্দেহ হলে তিনি চিঠি গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় শালেশ্বর ডাকঘরের দায়িত্বশীলকে নিয়ে বিয়ানীবাজার ডাকঘরে আসেন। বিয়ানীবাজার পোস্টমাস্টারের কাছে চিঠি খোলা হয়ে অভিযোগ করেন সিদ্দিক আলী। এ নিয়ে বিয়ানীবাজারের পৌস্ট মাস্টার একেএম কামরুজ্জামানের সাথে তার বাগবিতন্ডা ঘটে। চিঠি খোলার পর আবার কসটেপ দিয়ে লাগানো হয়েছে- এটা বলে সিদ্দিক আলী কৈফিয়ত চান। এতে ক্ষপে যান পোস্ট মাস্টার। তাদের মধ্যে বাগবিতন্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে চিঠি না নিয়ে ছেলে বাতিনকে নিয়ে পোস্ট অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন সিদ্দিক আলী।

সিদ্দিক আলীর ছেলে বাতিন বলেন, পোস্ট মাস্টার অফিসে বসে সিগারেট টেনে টেনে আমাদের সাথে কথা বলছিলেন। চিঠি খোলার পর কসটেপ লাগানো হয়েছে বলায় তিনি ক্ষেপে গিয়ে গালমন্দ করেন। এরকম কর্মকর্তার কারণে ডাক বিভাগের বারোটা বেজেছে।

সিদ্দিক আলী বলেন, চিঠিটি দেখলে একটি শিশুও বুঝবে এটি খোলা হয়েছে। কিন্তু পোস্ট মাস্টার বলেন, কোনভাবে এটি খোলা হয়নি। যেভাবে পাঠানো হয়েছে-চিঠি অবিকল সেইভাবে রয়েছে। আমি বিষয়টি আমার ভাইকে জানিয়েছি। সে বলেছে সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে মামলা করবে।

পোস্ট মাস্টার একেএম কামরুজ্জামান বলেন, কোন অবস্থায় তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়নি। চিঠির কসটেপ তারা নখ দিয়ে তোলার চেষ্টা করলে আমি বাধা দেই। চিঠি বিকৃত করার চেষ্টা থেকে তাদের বিরত থাকতে বলায় তারা বাজে আচরণ করেন। তিনি চিঠি ফেরত পাঠানো হবে জানিয়ে বলেন, গত ০৯ সেপ্টেম্বর চিঠিটি ঢাকায় আসে। সিলেট হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজার এবং ১২ সেপ্টেম্বর শালেশ্বর পোস্ট অফিসে যায়। এখানে চিঠিটি কোনভাবে খোলা হয়নি।