বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের উত্তর দুবাগ গ্রামের দক্ষিণ পাশের পাড়ায় প্রায় দুই কিলোমিটারের একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কার না করায় পাঁচ সহস্রাধিক বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে ধর্না দিয়েও কোন ফল পাননি এলাকাবাসী। উল্টো একই এলাকার উত্তর পাশের একটি ব্যক্তিগত রাস্তায় মাটি ভরাট কাজ হবে খবরে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টায় প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় মুরব্বী আব্দুস ছালাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন দুবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহেল আহমদ চৌধুরী, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, দুবাগ ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার আহমদ আয়াছ, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ সভাপতি কলিম উদ্দিন। এসময় গ্রামের সর্বস্তরের মানুষজন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামের প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থক। সকলের কাছে গ্রামটি নৌকার গ্রাম নামে পরিচিত। গ্রামের হাজার হাজার লোকজন রাস্তাটির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহালেও সরকারের বিশেষ বরাদ্দ আসে দুবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি তওফিক মাহমুদ চৌধুরী বাড়ির রাস্তায়। গ্রামবাসীর জনদূর্ভোগ লাঘবে অনতিবিলম্বে বরাদ্দ বাতিল করে গ্রামের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে, গ্রামের অতি প্রয়োজনীয় রাস্তাটি মেরামত না করে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির রাস্তা মেরামতে বরাদ্দ আসায় গ্রামবাসী প্রতিবাদ সভার আয়োজন করছে- এমন খবর পেয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিয়ানীবাজার থানার একদল পুলিশ। এসময় তারা সমস্যাটি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ সভা প্রত্যাহার করে নেন।

অন্যদিকে, গ্রামবাসীর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন অভিযুক্ত তওফিক মাহমুদ চৌধুরী। তবে রাস্তাটিতে বরাদ্দ আসার বিষয়টি স্বিকার করে তিনি বলেন, রাস্তাটি আমার একার নয়, রাস্তাটি দিয়ে গ্রামের ৮/৯ বাড়ির কয়েক’শ লোকজন চলাচল করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যাটি নিরসন করার উদ্যোগ নেয়া বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিল্লোল রায়। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে জন্ম নিবন্ধন পেতে ভোগান্তি, অবিভাবকরা দুশ্চিন্তায়