ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ বিয়ানীবাজারবাসী। পবিত্র রমজান মাসে তীব্র গরমের মাঝে বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একটু বাতাস ও বৃষ্টি এলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। অপরদিকে সংস্কার কাজের কথা বলে প্রতি সপ্তাহে বারংবার বন্ধ রাখা হচ্ছে সরবরাহ। সংস্কারের নাম করে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

গত কয়েক বছর বিয়ানীবাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তেমন কোনো সমস্যা পোহাতে হয়নি। তবে কয়েকমাস ধরে বিদ্যুতের ভেল্কিভাজি বেড়ে চলেছে। কয়েকদিন ধরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। একটু বাতাস-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। পরে দীর্ঘসময় পর আসছে বিদ্যুৎ। অনেক সময় ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকছে সরবরাহ।  তাছাড়া পবিত্র মাহে রমজান মাসেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, কয়েকমাস থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রমজান মাসে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিয়ানীবাজারবাসী।

তবে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, ঝড়বৃষ্টির কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। তাছাড়া সুপাতলা  সাব-স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিয়ানীবাজারবাসীকে।

আবুল কাশেম নামে এক পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, প্রতিদিনই বার বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। আর প্রচন্ড গরমে রাতের বেলা বিদ্যুৎ গেলে অসহনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। তার উপর কিছু দিন পর পর সংস্কারের কথা বলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এতো সংস্কারের পরও হালকা বাতাস দিলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তাহলে এ সংস্কার করে লাভ কি প্রশ্ন রাখেন তিনি। রহিমা বেগম নামে এক গৃহিনী বলেন, প্রায়ই সেহরীর সময় বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। গরমে ঘুমানো যায় না। অনেক সময় তারাবীর নামাজে দাঁড়ালেই বিদ্যুৎ চলে যায়।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম ভজন কুমার বর্মন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক পুরনো লাইন পরিবর্তন ও সুপাতলা সাব-স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার কারণে আশপাশ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ স্বাভাবিকভাবে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে উপজেলার অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে এতো সংস্কারের পরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝড়বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের সংযোগ তার ছিঁড়ে যায়, কোথাও বজ্রপাতে ট্রান্সফর্মারও বিকল হয়ে যায়। এসব নানা কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত দেখা দেয়। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমরা তাৎক্ষণিক কাজ করে থাকি।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজার পৌরসভার দাসগ্রাম রোড বেহাল, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা