যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি নির্বাচন ঘিরে ‘সচেতন বিয়ানীবাজারবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক এক বিবৃতিতে ব্যাখা প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন- অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে কিছু সংখ্যক বক্তি বিয়ানীবাজার সমিতির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বানচার করতে চাচ্ছে। বিয়ানীবাজার সমিতির সম্মানিত ভোটাররা তা কোনভাবেই মেনে নিবে না। তার প্রমাণ আজ অবদি দুটি পরিষদ আননন্দমুখর পরিবেশে দিনরাত পরিশ্রম করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতির কথা বলছে। ঠিক সেই মহুর্তে দুই একজন ব্যক্তি ‘সচেতন বিয়ানীবাজারবাসী’ বলে নির্বাচন কমিশনকে হুমকী ধুমকি দিচ্ছেন। তার প্রমাণ গত ১৪ সেপ্টেম্বরের একটি সভায় জনৈক ব্যক্তির বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ফুটে উঠেছে। এটাও বলেছে, ওজনপার্ক মানুষের জায়গা এখানে ভোট কেন্দ্র দিতেই হবে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওজনপার্কে একই ব্যক্তিবর্গ সচেতন বিয়ানীবাজারবাসী’র পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ভোট কেন্দ্র নিয়ে। আবার তারা বলেছেন, প্রার্থী বা কোন ভেটারের পক্ষে এই সম্মেলন নয়, তবে কার জন্য তারা ভোট কেন্দ্র চাচ্ছেন? প্রথম বলছেন- ওজন পার্কে কেনো ভোটকেন্দ্র হলো না? তখন আমি তাদেরকে বলেছি- সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যে পরিমান জায়গার প্রয়োজন তা ওজন পার্কের কোন হল নেই। তখন আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্রের ১০ নং ধারার ‘খ’ ধারা অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যমন্ডলী এবং নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য সহ মোট তিন পরিষদের যৌথ সভার মাধ্যমে চুলচেরা বিচার-বিচেনা করে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং ওজন পার্কের সন্নিকটে জয়া হলে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়।

সম্মেলনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্তে কেন্দ্র নির্ধারিত হয়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ইতিপূর্বে একাধিকবার সমিতির নির্বাচন ওজনপার্ক ছাড়াও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ শব্দ সম্পর্কে ঐ ব্যক্তিদের মোটেই কোন ধারণা নেই। তারা বক্তব্যে বলেছেন, ওজন পার্কে নাকি অর্ধেক ভোটার, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এবারের সর্বমোট ভোটার ৫,৩৬৭জন। তার মধ্যে ১,৯৯৭জন ভোটার ওজন পার্কের অর্থাৎ ৩৮% ভোটার। তারা বক্তব্য দিয়েছেন- জয়া হলে বর্তমান সেক্রেটারীর বিজনেস ইন্টারেষ্ট আছে এবং স্বত্তাধিকারী। সম্মেলনের ‘সচেতনবাসী’গণ খুব ভালোভাবেই জানেন যে, জয়া হলের মালিক একজন নন, সর্বমোট ৭জন। তাই এই ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে ওজন পার্কবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন।

তারা আরো বলেছেন, জয়া হলে নাকি বয়স্ক পুরুষ-মহিলাদের ভোট দিতে কষ্ট হবে। একথাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওজন পার্ক তথা বাঙালী কমিউনিটির বিবাহ, জন্মদিন, বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ সোসাইটি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন, বিয়ানীবাজার সমিতি প্রভৃতি সংগঠনের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস সহ গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো এই জয়া হলেই পালিত হয়ে আসছে। যেখানে প্রশস্ত সিড়ি এবং লিফ্ট আছে, কারো মুখে কোনদিন কোন অসুবিধার কথা শুনিনি। ওজন পার্ক থেকে জয়া হলে যেতে বাসের যোগাযোগের সুস্যবস্থা আছে। অন্যান্য স্থান থেকে আসতে এফ, ই, জি এবং এল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাফেলো, ফিলাডেলফিয়া, ব্রঙ্কস, এস্টোরিয়া, জ্যামাইকা থেকে আসতেও কিছুটা সহজ হবে। সবচেয়ে বেশী সুধিা ওজন পার্কবাসীর হবে জয়া হলে।

আমি শেষে একটি কথা বলতে চাই- ‘কথা বলা শিখতে একজন মানব সন্তানের দুই বছর লাগে, কিন্তু কি বলা উচিৎ আর কি বলা উচিৎ নয়, তা শিখতে লাগে সারাজীবন।

আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বদ্ধ পরিকর। সবার সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সকল ভোটার ও বিয়ানীবাজারবাসীদের প্রতি অনুরেঅধ কারো কথা বিভ্রান্ত না হয়ে ১০ অক্টোবরের নির্বাচনে আপনারা অংশ নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সমিতিকে শক্তিশালী করুন।

খুলেছে বিয়ানীবাজারের বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেন, চাকরি বদলেছেন অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম