যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটে ভাড়াজনিত বিবাদকে কেন্দ্র করে জয়নুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। শুক্রবার দিনগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নুল ইসলামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের কাজিরবন্দ (ছালিয়া) গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন জয়নুল। গত মঙ্গলবার সকালে জয়নুলের মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহতের পারিবার ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, জয়নুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পাড়ি জমান। তিনি মিশিগানের ডেট্রয়েটের কাশ্মীর স্ট্রিটে স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করতেন।

নিহতের বন্ধু নাঈম চৌধুরী জানান, রাতে ট্যাক্সি চালাচ্ছিল জয়নুল। এ সময় এক যাত্রী তাকে ট্যাক্সির ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জয়নুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জয়নুলকে গুলি করা হয়। পুলিশকে উদ্ধৃত করে ফক্স টু ডেট্রয়েট জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ জয়নুল চলন্ত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

নাঈম চৌধুরী আরও বলেন, ‘একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে জয়নুলের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জয়নুল একজন ভালো, পরিশ্রমী ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনও খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। ‘আমরা আশা করছি, এ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েই পুলিশ হত্যাকারীকে খুঁজে বের করবে।’

এদিকে জয়নুলের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান তরুণ তাজ চৌধুরী। এতে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার ডলারেরও আর্থিক অনুদান উঠেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অসহায় পরিবারটিকে সহায়তার জন্য ১ লাখ ডলার অনুদান সংগ্রহ করতে চাইছেন তারা।

এক ভিডিও বার্তায় তাজ চৌধুরী বলেন, ‘পরিবারটির জন্য যতটুকু সম্ভব অর্থ সংগ্রহ এবং একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এদিকে জয়নুলের মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়ি বড়লেখার বর্ণি ইউনিয়নের কাজিরবন্দ (ছালিয়া) গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জয়নুল ইসলামের প্রতিবেশী বড়লেখার বর্ণি ইউনিয়নের সমাজসেবক মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করেন। তিনি খুবই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে আমরা শোনেছি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি উন্নত দেশে একজন মানুষকে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করলো। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।